তালিকায় রুই কাতলা



  • সৈয়দ আতিক
  • ১৬ জুন ২০১৯, ০১:৫১

সরকারি কর্মচারী। মাসিক বেতন পান ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা; অথচ শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আয় ব্যয়ের কোনো সঙ্গতি নেই। যে টাকা বেতন, তাতে দিন এনে দিন খাওয়ার মতো অবস্থা; কিন্তু দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িত থেকে বনে গেছেন বিশাল সম্পদের মালিক। নির্মাণ করেছেন সুরম্য অট্টালিকা। আছে পাইক পেয়াদা। দেশের বাইরেও রয়েছে গাড়ি-বাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স। দুর্নীতিবাজদের মধ্যে এমন দু’-একজন কর্মচারী দেশ ছেড়েও পালিয়ে গেছেন। সম্প্রতি এমন ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। এ ধরনের দুর্নীতিবাজ দমনে সরকার প্রধানের পক্ষে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তালিকা করে করে এদের দমন করতে বলা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। দুর্নীতির ‘রুই কাতলা’ ব্যক্তিদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকার প্রধানের নির্দেশনার পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দৃশ্যমান অভিযানের দিকে যাচ্ছে। তাদের সম্পদ ক্রোক করা হবে। বিদেশে পালিয়ে গেলেও ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর কঠোর নজরদারি করছে বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা।মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

কৌশলগত কারণে নাম প্রকাশ না করে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মানবকণ্ঠের সঙ্গে অনেক খোলামেলা কথা বলেছেন। কীভাবে এবার দুর্নীতিবাজদের দমন করা হবে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনাগুলো কি কি, আবার সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন কৌশলে দমন করা হবে সব বিষয়ে একটি বিশেষ ছক তৈরি করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন করতে গিয়ে কেউ যাতে সন্দেহভাজনের কাছে সুবিধা নিয়ে অভিযোগ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না করে সেদিকেও নজর আছে। কারণ অতি সম্প্রতি দু’জন সরকারি কর্মকর্তার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়টি সবার নজরে এসেছে, যার ফলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির আওতায় আসবে জড়িতরা। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে যেটা নজির হয়ে থাকবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের থেকে এ ধরনের কড়া বার্তা এসেছে। এখন এক এক করে ঘটনার প্রেক্ষিতে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরো জানান, ঢেলে সাজানো হবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক)। এরসঙ্গে যুক্ত হবে পুলিশের দুটি বিশেষ ইউনিট। এরমধ্যে একটি নতুন ইউনিটের একজন ডিআইজির নেতৃত্বে একটি টিম সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছে। যে বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে টিমের প্রধান দুর্নীতি দমনে সরকারের যে কঠোর মনোভাব এর সঙ্গে যে ধরনের কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন সে বিষয়ে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে একজন হত্যা বা মাদক মামলার আসামিকে যে পদ্ধতি আইনের আওতায় আনা হয় সে পদ্ধতিতে ‘দুর্নীতিবাজকে’ শাস্তির আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এটাই হবে দৃশ্যমান অভিযান। যাতে করে অপরাধী ব্যক্তির ভেতরে লজ্জাবোধ তৈরি হয়, যা দেখে অন্যরা ভয়ে এ পথ থেকে নিজেকে সতর্ক রাখে।

জানা যায়, দুর্নীতি দমনে কঠোরনীতি প্রয়োগ করতে দুটি বিশেষ ইউনিটকে দুদকের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে শিগগিরই। এ বিশাল অভিযানের সঙ্গে সরকারের একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ ভ‚মিকা রাখছে। নজর রাখা হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সন্দেহভাজনদের ওপর। প্রয়োজনের বিধি মোতাবেক দুর্নীতিবাজদের সম্পদ ক্রোক করা হবে। জেল-জরিমানা করা হবে অভিযুক্তদের স্ত্রী, সন্তান ও জড়িত স্বজনদেরও। অভিযানের ফাঁক গলিয়ে কেউ যাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আবজাল দম্পতির মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে না যায়, সে দিকেও নজর রাখছে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক আবজাল তার স্ত্রীকে নিয়ে সম্প্রতি দেশত্যাগ করে পালিয়ে যায়। দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মাধ্যমে কাঁড়িকাঁড়ি টাকা আয় করে নিজেকে রক্ষায় যারা বিদেশ পাড়ি দেবেন তাদেরও রেহাই মিলবে না। অভিযানের তালিকায় যাদের নাম আসবে তাদের কারোরই রক্ষা নেই। এ ক্ষেত্রে কেউ বিদেশে পালিয়ে গেলেও তাকে ফেরত আনা কঠিন কাজ নয়। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে যেমন ফেরত আনা সম্ভব তেমনি আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে যে কোনো ধরনের অপরাধীকে ফেরত আনা যায়। সরকার এতটাই কঠোর যে, এ ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনে বিদেশ থেকেও ফেরত এনে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করবে, যা বাংলাদেশে নজির স্থাপন হতে পারে।



Loading...
ads


Loading...