দেশের বাইরে যাওয়ার পথ বন্ধ ওসি মোয়াজ্জেমের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১২ জুন ২০১৯, ১৩:৫৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ওসি মোয়াজ্জেমের দেশের বাইরে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে কোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা হবে। বুধবার কারা অধিদপ্তরে উদ্ভাবনী মেলা ও শোকেসিং ২০১৯ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওসি মোয়াজ্জেমকে ধরা যাচ্ছে না বিষয়টা ঠিক নয়। সে দেশেই আছে। তার দেশের বাইরে যাওয়ার সমস্ত পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে কোনো সময় তাকে আটক করা হবে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি মিজান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিশ্চয়ই কোনো দুর্বলতা আছে বলেই ডিআইজি মিজান ঘুষ দিয়েছে। ঘুষ দেয়া-নেয়া দুটোই অপরাধ। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে আগের অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার এখনও প্রক্রিয়াধীন।

তদন্ত চলাকালীন ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে যাওয়া ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা যৌন নিপীড়ন করে বলে অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ এ ব্যাপারে সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে মাদরাসাটির সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় সিরাজ উদ্দৌলার সহযোগী দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাত পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১০ এপ্রিল মারা যান।

এ দিকে নুসরাত জাহান রাফির আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিডিওতে ধারণ এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। নুসরাত হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। নুসরাত হত্যার ঘটনায় গাফিলতি খতিয়ে দেখতে ১৩ মে পুলিশ সদর দপ্তর ডিআইজি রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে।

গত ৩০ এপ্রিল রাতে কমিটি সদর দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেন। এতে বলা হয়, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের সঙ্গে মিলে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর সব ধরনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি মিডিয়ায় আসার কারণে অপচেষ্টা সফল হয়নি। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই ঘটনা বিকৃত করে ওসি মোয়াজ্জেমের পক্ষে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন এসপি জাহাঙ্গীর আলম। এ কারণে এসপি জাহাঙ্গীর আলমকে বদলি এবং সোনাগাজীর তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও এসআই ইকবাল হোসেনকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারির শুরুর দিকে ডিআইজি মিজানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। মিজানুরের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে মিজানুরকে দুদক কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মিজানুর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। মিজানুরের নামে ৪৬ লাখ ৩২ হাজার ১৯১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৭২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫২ টাকার অসংগতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা দুদকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তদন্ত শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় দুদক পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার এ অভিযোগ পাওয়া যায়।

মানবকণ্ঠ/এসএস




Loading...
ads




Loading...