বাণিজ্যিক সম্প্রচারে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৬ মে ২০১৯, ১৫:১১

বাণিজ্যিক সম্প্রচারে যাচ্ছে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। উৎক্ষেপণের এক বছর পর এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি ৩১টি টেলিভিশন।

গত বছরের ১১ মে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় স্যাটেলাইটটি।

উৎক্ষেপণের ছয় মাস পর স্যাটেলাইটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের কাছ থেকে স্যাটেলাইটটির দায়িত্ব বুঝে নেয় রাষ্ট্রমালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)।

বিসিএসসিএল সূত্রে জানা গেছে, স্যাটেলাইটটি দিয়ে নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের মাধ্যমে আগামী ১৯ মে এই সেবা চালু হবে। আর একই দিনে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ‘ডাইরেক্ট টু হোম’ (ডিটিএইচ) সেবা চালু হবে। এতে ক্যাবল ছাড়াই অ্যানটেনার মাধ্যমে টেলিভিশন দেখা যাবে। এ ছাড়া সরকারের পরিকল্পনায় আছে, হাতিয়া দ্বীপের ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়া হবে। সেখানে টেলি-মেডিসিন ও টেলি-এডুকেশন সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হতে বাংলাদেশের ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা খরচ হয়। তবে এখনও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সরকারের আয়ের খাতায় নাম লেখাতে পারেনি।

এ বিষয়ে বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে কোনও টাকা পায়নি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। বাণিজ্যিক সম্প্রচারেও প্রথম তিন মাস বিনা মূল্যে সেবা দিতে হবে। এ সময় কোনও ভুল-ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, স্যাটেলাইটের সঙ্গে ৩১টি বেসরকারি টেলিভিশনের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ সেবা। বাণিজ্যিক সম্প্রচারের প্রথম তিন মাস পর প্রতিটি টিভি চ্যানেল থেকে মাসিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করা যাবে বলে আশা করেন বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান।

গত বছরের নভেম্বরে দেশের নয়টি টেলিভিশন চ্যানেল ও একটি ক্যাব্ল অপারেটর পরীক্ষামূলকভাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহার করে। পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে যুক্ত ছিল ডিবিসি চ্যানেল।

এ বিষয়ে ডিবিসি চ্যানেলের সম্প্রচার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান ও বাংলাদেশ ব্রডকাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হামিদ উল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দিয়ে ট্রান্সমিশনের পর সিগন্যালের শক্তি ও মান নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। স্যাটেলাইটটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে প্রচুর টাকা দেশেই থাকবে, যা বিদেশি স্যাটেলাইটকে দিতে হয়।

মানবকণ্ঠ/এএম

 

 



Loading...


Loading...