রাজধানীর জলাধার এখন ইতিহাস



দেশজুড়ে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও তা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্তভাবে মিলছে না পানির উৎস বা জলাধার। ক্রমেই বিলুপ্ত হচ্ছে পুকুর ও জলাধারগুলো। নগর পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে মহানগর এলাকায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জলাশয় থাকা উচিত। কিন্তু সারাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৪২ হাজার একর জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে।

রাজধানীতে এক সময় দুই হাজার পুকুর, ৪৪টি খাল ও অসংখ্য ঝিল ছিল। এক শ্রেণির দখলবাজেরা পাল্লা দিয়ে দখল করে নিচ্ছে এসব জলাশয়। শুধু ঢাকার দুই সিটি এলাকা থেকে বছরে গড়ে ৫ হাজার ৭৫৭ একর জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। আর তাই অগ্নিকাণ্ড ঘটলেই তা নেভাতে মিলছে না পানির উৎস বা জলাধার। অপরদিকে সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ পানিবদ্ধতা। পরিবেশবাদী সংগঠন এ ব্যাপারে বারবার তাগাদা দিলেও নগরীর পানির উৎস রক্ষায় বা জলাধার পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছেন ঠুটো জগন্নাথের ভূমিকায় যেন কিছুই করার নেই তাদের।

রাজধানীর খাল, জলাশয় থেকে শুরু করে পুকুর পর্যন্ত প্রভাবশালী দখলদারদের কারণে ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক প্রাণহানীসহ হচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে জনসাধারণকে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, খুব দ্রুতই আমাদের প্রতিটি এলাকার জলাধার ও খালগুলোকে দখলমুক্ত করে সচল করতে পারলে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও তা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্তভাবে মিলবে পানির উৎস অপরদিকে নগরীর জলাবদ্ধতাও অনেকটা কমে যাবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মোহম্মাদ খান বলেন, সারাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৪২ হাজার একর জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। শুধু ঢাকার দুই সিটি এলাকা থেকে বছরে গড়ে ৫ হাজার ৭৫৭ একর জলাভ‚মি হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৯ হাজার ৫৫৬ একরের মধ্যে ভরাট হয়েছে ৩ হাজার ৪৮৩ একর। পাশাপাশি ঢাকা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ২০১০-এর মধ্যে এক লাখ ৯৩৭ একরের মধ্যে ২২ হাজার ৫১৬ একর জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে। এ ছাড়া সাভারে বন্যা প্রবাহ অঞ্চল ১৭ হাজার ৪০৩ একর। এর মধ্যে ভরাট হয়েছে ২ হাজার ৮১৩ একর জায়গা। জলধারণ অঞ্চল ৩০ একরের মধ্যে ভরাট হয়েছে ২২ একর। জলাশয় ৩ হাজার ২০৪ একরের মধ্যে ভরাট হয়েছে ২৩০ একর। সবমিলিয়ে সাভারে ২০ হাজার ৬৩৮ একরের মধ্যে ৩০ হাজার ৬৫ একর ভরাট হয়েছে। অপরদিকে গাজীপুরে মোট ১৩ হাজার ৮৪২ একরের মধ্যে ভরাট হয়েছে ২ হাজার ৩৬০ একর। রূপগঞ্জে ১৬ হাজার ৫৪২ একরের মধ্যে ভরাট হয়েছে ৬ হাজার ৭৮৬ একর। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জে ২৬ হাজার ৪৭৪ একরের মধ্যে ৫ হাজার ৬৮৯ একর ভরাট হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১০ সালে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) কর্তৃপক্ষ ১৫৯০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা তথা রাজধানীর ১২ শতাংশ পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিল। এর মধ্যে পুকুর, খাল এবং লেকসহ অন্যান্য জলাশয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৭ সালে রাজউক জরিপ চালিয়ে দেখেছে, রাজধানীতে মাত্র ১৭৪৪ একর পানি সংরক্ষণ এলাকা রয়েছে। এর ফলে রাজধানী হয়ে পড়ছে অনেকটা পানিশূন্য। পানি সংরক্ষণে এত স্বল্প জলাধার বিশ্বের আর কোনো রাজধানীতে রয়েছে কিনা, জানা নেই। অথচ এর সজীব এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত জলাধার খুবই জরুরি। তাছাড়া প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার, ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর বেআইনি। কোনো ব্যক্তি এই বিধান লঙ্ঘন করলে আইনের ৮ ও ১২ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একইসঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, যে কোনো ধরনের জলাশয় ভরাট করা নিষিদ্ধ।

ফার্মগেট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মাহাসরুপা হাসান টুবন বলেন, আমাদের শৈশবের প্রতিদিনের আনন্দে থাকত সবাই মিলে পুকুরে সাঁতার দেয়া। অথচ এখন পুকুরের অভাবে শিশুদের সুইমিংপুলে নিয়ে যেতে হয়। পুকুর দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে সুউচ্চ দালান-কোঠা। এই অবৈধ দখল বন্ধ করতে না পারলে ঢাকার ঐতিহ্য পুকুর ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরে বড় বড় ভবন গড়ে উঠছে। কিন্তু এগুলো নির্মাণের পেছনে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা নেই। ফলে পুকুর-খাল-বিল-জলাধার একের পর এক বিলীন হচ্ছে। যার ফলে একদিকে যেমন সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ পানিবদ্ধতা অপরদিকে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তা নেভাতে মিলছে না পানির উৎস। জলাধার রক্ষায় আইন থাকলেও সেগুলো না মানায় একের পর এক ভরাট হয়ে সেখানে গড়ে উঠছে আবাসন। সরকার জলাধার রক্ষায় ২০০০ সালে আলাদা আইন করলেও এর কোনো সুফল নেই।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মতিন বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং অগ্নিকাণ্ডে পানির উৎস সৃষ্টি বা রক্ষায় কোনো মাস্টারপ্ল্যান নেই। শুধু যেখানে পানি জমে বা অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে সেখানেই তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিছুদিন গেলে আবার সে উদ্যোগেও ভাটা পড়ে।

তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে রাজধানীতে দুই হাজার পুকুর ছিল। শুধু পুকুর নয়, প্রায় ৪৪টি স্রোতস্বিনী খাল ছিল। যে দুই হাজার পুকুর ছিল সেগুলোর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯শ’টি কোথায় গেল, ৪৪টি খালের সিংহভাগ কেন হারিয়ে গেল?

এক পরিসংখ্যান সূত্রে জানা যায়, খিলগাঁওয়ের পুকুর ভরাট করায় সেটি হয়েছে এখন খেলার মাঠ। এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পুকুর, জহুরুল হক হলের পুকুরটি টিকে আছে। এ ছাড়া রমনা পার্কের বিশাল দীঘি পার্কের সৌন্দর্য ধরে রেখেছে আজও। টিকে আছে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুকুরটি। কদমতলা-রাজারবাগের গঙ্গাসাগর দীঘিটি এখনো আছে। সবুজবাগের বৌদ্ধবিহারের পুকুরও উন্মুক্ত রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী-ইসলামপুরের নবাববাড়ির পুকুর আগের মতোই আছে। পুরান ঢাকার বংশাল পুকুরে রয়েছে সিঁড়িসহ দুটি ঘাট। আছে নওয়াব আবদুল বারীর পুকুর। আহসান মঞ্জিল পরিবারের নওয়াব আবদুল বারীর খননকৃত বিশাল পুকুর। ১৮৩৮ সালে এটি খনন করা হয়।

পরিবেশকর্মী সরোয়ার চৌধুরী বলেন, আগে ঢাকায় অসংখ্য পুকুর থাকলেও বর্তমানে তা ভরাট করে বাসাবাড়ি করা হয়েছে। শাহবাগে বড় দুটি পুকুর ছিল, যার একটি আজিজ সুপার মার্কেট ও অন্যটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল ও জিয়া হল করা হয়েছে। আজিজ সুপার মার্কেটের পশ্চিম পাশেও একটি পুকুর ছিল, যেখানে পাওয়ার হাউস করা হয়েছে। শহরের শান্তিনগরের পীর সাহেবের গলিতে বড় একটি পুকুর ছিল। চারদিক থেকে ভরাট করার কারণে এটা এখন ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। জিগাতলা, রায়েরবাজার এলাকায় প্রচুর ডোবা ছিল। এখন এ ডোবাগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে বহুতল ভবন। বাসাবো, খিলগাঁও, রাজারবাগ এলাকার প্রায় সব পুকুরই সরকারিভাবে ভরাট করা হয়েছে।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুকুর, কমলাপুর রেল স্টেশনের পূর্বদিকে রেলের ঝিল, আহমদবাগ এলাকার ঝিলের নাম মানচিত্র থেকে মুছে গেছে। পুরান ঢাকার শত বছরের ঐতিহ্য সিক্কাটুলী পুকুরটিও হুমকির মুখে। গেণ্ডারিয়ার ডিআইটি পুকুর ভরাট করে সেখানে উঠছে মার্কেট।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আকরামুল হক বলেন, নগরজীবনে পুকুর, খাল থাকাটা খুবই জরুরি। এগুলো বর্ষা মৌসুমে এলাকার জলাবদ্ধতা থেকে নগরকে যেমন রক্ষা করে তেমনি অগ্নিকাণ্ডে পানির উৎস পেতে সমস্যায় পড়তে হয় না। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভ‚মি আগ্রাসনের কারণে অনেক পুকুর ও খাল আজ বিলীন হয়ে গেছে। নিজেদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই এসব জলাধার আমাদের রক্ষা করতে হবে।

জানা গেছে, রাজধানীর ভেতরের খাল এবং চারপাশের নদ-নদী দখলমুক্ত করার জন্য আদালতের নির্দেশসহ নগরবিদরা বহু তাগিদ দিয়েছেন। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখিও হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর খালগুলো উদ্ধারের নির্দেশও দিয়েছেন। এসব আদেশ-নির্দেশের কোনোটিই বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি। বরং বিদ্যমান যে কয়টি খাল, এবং কিছু সংখ্যক বিল, পুকুর, লেক রয়েছে সেগুলোও প্রভাবশালী দখলদাররা ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে। হাউজিং কোম্পানিগুলো বিভিন্ন প্রজেক্ট গড়ে তুলছে। এদের নিবৃত করারও যেন কেউ নেই।

উন্নয়নের নামে খাল-বিল, নদী-নালা দখল করে ভরাট বন্ধের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ২৭ মার্চ বিশ্ব পানি দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে সংরক্ষণ করে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

জানা গেছে, ১৯৮৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত গত ৩৩ বছরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ঢাকার এক হাজার ৯০০ সরকারি-বেসরকারি পুকুর ও জলাধার। শুধু পুকুর নয়- খাল, বিল, জলাধার হারিয়ে যাওয়ায় রাজধানীতে প্রকট হচ্ছে জলাবদ্ধতার সমস্যা।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএসএস) প্রধান নির্বাহী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আতিক রহমান বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে জলাভ‚মিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। গুলশানসহ ঢাকা শহরের ভেতরে বড় বড় জলাধার ছিল। এখন সবই দখল হয়ে গেছে। আগে অনেক পুকুর থাকলেও এখন তার অস্তিত্ব নেই। একমাত্র হাতিরঝিল ছাড়া আর কোনো জলাধার রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে সরকার চেষ্টা করলে এখনো পরিকল্পনার মাধ্যমে অনেক জলাধার ও নিম্নাঞ্চল রক্ষা করতে পারে। তিনি জানান, অবশ্যই ঢাকা শহরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে ২৫ ভাগের বেশি জলাশয় থাকা প্রয়োজন।

ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) এক সমীক্ষা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সাড়ে তিন দশকে হারিয়ে গেছে ঢাকার ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জলাভূমি, খাল ও নিম্নাঞ্চল। জলাশয় ভরাটের এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সাল নাগাদ ঢাকায় জলাশয় ও নিম্নভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের ১০ শতাংশের নিচে নেমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জলাভ‚মির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৯৫২ হেক্টর এবং নিম্নভূমি ১৩ হাজার ৫২৮ হেক্টর। একই সময়ে খাল ও নদী ছিল দুই হাজার ৯শ’ হেক্টর। রিপোর্টে ১৯৮৮ সালের পর দুই দশকে বেশিরভাগ জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। ১৯৮৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ঢাকার প্রায় অর্ধেক নিম্নভূমি বিলীন হয়ে গেছে। ২০১৪ সালে ঢাকা ও আশপাশে জলাভ‚মি কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৩৫ হেক্টর, নিম্নভূমি ছয় হাজার ১৯৮ হেক্টর এবং নদী-খাল এক হাজার দুই হেক্টর। অর্থাৎ ৩৫ বছরে জলাশয় কমেছে ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ সময়ের ব্যবধানে নিম্নভূমি কমেছে ৫৪.১৮ এবং নদী-খাল ৬৫.৪৫ শতাংশ।

মানবকণ্ঠ/এএম



Loading...


Loading...