উধাও বাস: ভোগান্তিতে যাত্রীরা



আবরারের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা এবং পা হারানো রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দিতে আদালতের দেয়া নির্দেশে ও সরকারি তৎপরতায় চাপে রয়েছেন গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা। এ অবস্থায় চাপ সামলাতে পুরনো কায়দায় যাত্রীদের জিম্মি করার কৌশল নিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। হঠাৎ করেই এ কারসাজি শুরু করেছেন তারা। গত বুধবার মালিক-শ্রমিকেরা রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশে বাস-মিনিবাসের চলাচল কমিয়ে দেন। অপরদিকে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশও সক্রিয় হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ যাত্রীরা।

জানা গেছে, আদালত থেকে দুই পরিবহন কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশে চাপে পড়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। দুর্ঘটনার পর আদালতের দেয়া এ রায় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চাপে থাকায় হঠাৎ করেই রাজধানী ঢাকার রাস্তা থেকে উধাও হয়ে গেছে গণপরিবহন। গত কয়েকদিনে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে বাসের সংখ্যা নেমে এসেছে একেবারে আঙ্গুলের কড়ায়। ফলে নাগরিকরা গাড়ি না পেয়ে অবর্ণনীয় ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। সকালে অফিসগামী মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা পাচ্ছেন না। যে ক’টা বাস মিলছে সেসব আগে থেকেই যাত্রীতে ঠাসা। ফলে দীর্ঘ পথ হেঁটে বা রিকশায় যাতায়াত করতে হচ্ছে লোকজনকে। আর দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের সে ভোগান্তির মাত্রা গিয়ে ঠেকেছে সীমাহীন পর্যায়ে। দিনের অন্য সময়ের চিত্রও একই। বাস না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ, নারী, অসুস্থ ব্যক্তি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দিশাহারা অবস্থায় পড়েছেন।

ভুক্তভোগী নাগরিকদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। সম্প্রতি কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্র বিক্ষোভ এবং বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহের পর বাস মালিকরা অধিকাংশ বাসই তুলে নিয়েছেন রাস্তা থেকে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, চালক দুর্ঘটনা ঘটালে তাদের পরিবারের সবাইকে হয়রানি করা হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন আইনে অজামিনযোগ্য ধারা যোগ করা হয়েছে। পথে পথে হয়রানির শিকার হচ্ছেন চালক। এ অবস্থায় যে কোনো সময় রাজধানী ও দূরপাল্লার পথে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এসএম সালেহ উদ্দিন বলেছেন, সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ানো ঠিক হচ্ছে না। পরিবহন মালিকদের উচিত গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমে আসা। তাদের যদি নিরাপত্তা সঙ্কট থাকে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বসতে পারে। তাদের সহযোগিতা নিতে পারে। রাজধানীতে বসবাসকারী দেড় কোটিরও বেশি নাগরিকের প্রধান ভরসা গণপরিবহনে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে মূলত, জনগণের প্রতি প্রতিশোধমূলক আচরণ করছেন তারা।

অথচ এসব দেখেও যেন দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। আজিমপুর-নিউমার্কেট হয়ে আব্দুল্লাহপুরগামী রুটের যাত্রী আবুল কালাম সোহাগ জানান, এ রুটের বাস এমনিতেই কম। ভিআইপি, বিকাশের মতো কয়েকটি পরিবহন চলাচল করে। কিন্তু এসব বাস মাত্র কয়েকটিতে এসে ঠেকেছে। বিকাশ বাস চালক শফিকুল বলেন, লাইসেন্স না থাকার কারণে তাদের কোম্পানির অধিকাংশ বাস গ্যারেজে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু কর্মজীবী মানুষ তো আর নিজেদের ঘরে বন্দি রাখতে পারে না। প্রতিদিন সকালেই তাদের ছুটতে হয় কাজে। ফলে ভোগান্তির এক শেষ অবস্থা দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চাপায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী মারা যাওয়ার পর তার পরিবারকে তাৎক্ষণিক ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। বাসের চাপায় প্রাইভেট কারের চালক রাসেল সরকার পা হারানোর ঘটনায় আদালত তাকে ৫০ লাখ টাকা দিতে গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। গত বুধবার ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। বাকি ৪৫ লাখ টাকা এক মাসের মধ্যে দিতে আদেশ দেয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এএম



Loading...
ads

Loading...