বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হাসপাতাল



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৪৭

মানুষ অসুস্থ হলেই তবে হাসপাতালে যায়। সঠিক চিকিৎসা আর সেবা-যতেœর কল্যাণে অসুস্থ মানুষ হয়ে ওঠে সুস্থ মানুষ। কিন্তু যেখানে রোগী ভর্তি হওয়া মানে সুস্থতার বদলে আরো অসুস্থ হওয়া তাহলে বিষয়টি কেমন হয়। সম্প্রতি একদল ক্যাম্পেইনার গুয়াতেমালার একটি হাসপাতালকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হাসপাতাল বলে অভিহিত করেছে। কারণ হিসেবে তারা দেখিয়েছে যে, এই হাসপাতালে যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটে।

হাসপাতালের যেখানেই তাকানো হয় সেখানেই শুধু অচেতন মানুষ শুয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রচণ্ড সূর্যের তাপেও অনেক রোগী শুয়ে ছিল। পরে জানতে পেরেছিলাম যে প্রত্যেক রোগীকেই উঁচুমাত্রার ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করে রাখা হয়েছে। অন্য কোনো হাসপাতালে যা আমি দেখিনি এখানে তা দেখতে পেয়েছি। বেশিরভাগ মানুষের শরীরে পোশাক ছাড়া কিছুই ছিল না। আর যাদের শরীরে পোশাক ছিল তাও যৎসামান্য। মল আর মূত্রের মাঝে গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিল রোগীরা।

দ্য ফেদ্রিকো মোরা হাসপাতালটির স্থায়ী রোগীর সংখ্যা ৩৪০ জন। এদের মধ্যে ৫০ জনই মানসিকভাবে অসুস্থ এবং অপরাধী। হাসপাতালের প্রধান রোমিও মিনেরার মতে, হাসপাতালের খুব কম সংখ্যক মানুষেরই মানসিক সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে মিনেরা বিশ্বাস করেন যে তারা চ্যারিটি কর্মী, যারা একটি প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য করছে। কিন্তু এই হাসপাতালে কোনো সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধ। তবে আমরা কয়েকটি মানবাধিক সংস্থার হয়ে সুপারিশ করিয়ে তবে হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারি।

হাসপাতালের মূল বিভাগে ঢোকার পর তেমন অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করা যায় না। কিন্তু যতই সামনে আগানো হয় ততই অস্বাভাবিক সব রোগীর দেখা পাওয়া যাবে। রোগীরা অনেক সময় বলে তাদেরকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে। তবে সবচেয়ে হƒদয়বিদারক ঘটনা হলো, ৭০ জন রোগীর জন্য মাত্র দু’জন নার্স কাজ করে। তাও আবার তাদের দিনের বেশিরভাগ সময়েই পাওয়া যায় না। অন্ধকার ঘরের দিকে গেলে সেখানে কঠিন লোহার বিছানায় শেকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় অনেককে দেখতে পাওয়া যাবে। এমনকি এদেরকে মলমূত্র ত্যাগ করার জন্যও কোথাও নিয়ে যাওয়া হয় না। ওই লোহার বিছানাতেই তাদের সব প্রাকৃতিক কাজ সারতে হয়।

হাসপাতালের সার্বিক মান নিয়ে যখন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায় যে, তারা বিশ্বে স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মানুযায়ী রোগীদের খুব কম মাত্রার ঘুমের ওষুধ দেয়। এছাড়াও কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে তাদের হাসপাতালের সব নার্সই বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তারা রোগীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখে।

একটা পর্যায়ে জানা যায়, রোগীদের অনেকেই হাসপাতালের গার্ডদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। একজন নারী রোগী জানায় যে, তাকে ঘুমের মধ্যে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। তার ভাষায়, ‘আমাকে ক্রমাগত ঘুমের ওষুধ খেতে দেয়া হতো। এভাবে চলতে থাকায় আমি একটা সময় কিছুই আর মনে করতে পারতাম না। এমনকি শরীরের ওপর দিয়ে কোনো অত্যাচার হলেও টের পেতাম না। রাতের আধারে গার্ডরা আমাকে ধর্ষণ করে এবং আমার পা গড়িয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।’ এ রকম আরো অনেক দুর্বিষহ ঘটনা ঘটে এই হাসপাতালে। রাষ্ট্র এবং সরকারের নাকের ডগায় বসে রোগীদের সঙ্গে এ ধরনের পাশবিক আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীদের যত বেশিদিন হাসপাতালে রাখা যাবে ততই বাড়বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুনাফা। আর যেহেতু এই হাসপাতালে অনেক অপরাধীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় তাই সরকারের তেমন কোনো নজরদারিও থাকে না হাসপাতালটির প্রতি। যার পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করে রোমিওর মতো কর্মচারীরা।




Loading...
ads




Loading...