আফ্রিকার ক্রীতদাস ব্যবসা



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৪২

আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের ‘ট্রান্স আটলান্টিক সেলেভ ট্রেডস’ দুর্গটি ক্রীতদাস ব্যবসার জ্বলন্ত সাক্ষী হিসেবে আটলান্টিকের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। যারা এ অঞ্চলের দাস ব্যবসার ইতিহাস জানেন তারা এখানে এসে দুর্গের অন্ধকার কুঠুরিতে কিছুক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলে অনুভব করতে পারবেন কী অবর্ণনীয় আর মর্মান্তিক ছিল সেসব ভাগ্যাহত ক্রীতদাসের জীবন কাহিনী। ক্রীতদাস ব্যবসার কথা জানাচ্ছেন- সুরাইয়া নাজনীন

আফ্রিকার দেশ ঘানার দক্ষিণ উপক‚লীয় অঞ্চল কেপকোস্টের ‘এলমিনা’ নামক স্থানে অবস্থিত ক্যাসলটির নাম ‘সেন্ট জর্জ এলমিনা’। তবে ইতিহাসবিদ এবং পর্যটকদের কাছে এটি ‘এলমিনা ক্যাসল’ হিসেবেই অধিক পরিচিত। কেপকোস্ট শহরটি অবস্থান রাজধানী আক্রা থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। সড়ক পথে আক্রা থেকে কেপকোস্ট যেতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের ‘ট্রান্স আটলান্টিক সেলেভ ট্রেডস’ এই দুর্গটি ক্রীতদাস ব্যবসার জ্বলন্ত সাক্ষী হিসেবে আটলান্টিকের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে।

যারা এ অঞ্চলের দাস ব্যবসার ইতিহাস জানেন তারা এখানে এসে দুর্গের অন্ধকার কুঠুরিতে কিছুক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলে অনুভব করতে পারবেন কি অবর্ণনীয় আর মর্মান্তিক ছিল সে সব ভাগ্যাহত ক্রীতদাসদের জীবন কাহিনী। দুর্গের দেওয়ালে কান পাতলে আজো যেন শোনা যায় আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে তোলা ক্রীতদাসদের আহাজারি আর ক্রন্দন। ইউনেস্কো এ ক্যাসলটিকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯০ সালে সরকার স্থাপনাটির প্রয়োজনীয় সংস্কার করেন। বর্তমানে এটি এদেশের জাতীয় জাদুঘর। উর্বর কৃষি ভ‚মি, সোনা, আইভরি আর মূল্যবান কাঠের লোভে আফ্রিকার এই উপক‚লে সর্ব প্রথম ১৪৭১ সালে পদার্পণ করে পর্তুগিজরা।

পর্তুগিজ প্রিন্স হেনরি ছিলেন এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তিনি এ এলাকার নাম দেন ‘গোল্ড কোস্ট’। পর্তুগিজদের উদ্দেশ্য ছিল ইন্ডিয়া হয়ে এশিয়ায় তাদের বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য দক্ষিণের এ পথটিকে উম্মুক্ত করা। যাতে আরব বণিকদের এ অঞ্চল থেকে হটিয়ে বিদায় করা যায়। বাণিজ্যের পাশাপাশি এ অঞ্চলে খ্রিস্ট ধর্মপ্রচার ও ছিল তাদের আগমণের অন্যতম উদ্দেশ্য। এলমিনা ক্যাসলটি অবশ্য ক্রীতদাস ব্যবসা পরিচালনার জন্য নির্মাণ করা হয়নি। প্রাথমিক অবস্থায় এটি নির্মিত হয় সোনা, আইভরি, টিম্বার ইত্যাদি ব্যবসা পরিচালনার জন্য।

এ কারণে অত্যন্ত সুরক্ষিত করে তৈরি করা হয় এ দুর্গটি। মূল দুর্গে যেতে হলে লোহার পাটাতনের মতো একটি ব্রিজ পার হয়ে যেতে হয়। অধিক নিরাপত্তার জন্য রাত্রি বেলায় এ ব্রিজটিকে সরিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হতো দুর্গের সঙ্গে বাইরের পৃথিবীর যোগাযোগ। ১৪৮১ সালে পর্তুগিজ রাজা জোআও ২ এলমিনা ক্যাসল নির্মাণের অভিপ্রায়ে ডিয়েগো আজম্বুজার নেতৃত্বে যাবতীয় নির্মাণ সামগ্রী ভর্তি জাহাজের বহর গোল্ড কোস্টে প্রেরণ করেন। ঐতিহাসিকরা দাবি করেন ওই নৌবহরে নাকি নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসও ছিলেন। আজাম্বুজা ক্যাসল নির্মাণে স্থানীয় লোকজন ও উপজাতীয় গোত্রের বাধার মুখে পড়েন। কিছু প্রাণহানিও ঘটে তখন।

কিন্তু আফ্রিকান রাজা ও স্থানীয় গোত্র প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে আজাম্বুজা তারাতারি করে দুর্গ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এত শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্তে¡ও ১৬৩৭ সালে এলমিনা ক্যাসল পর্তুগিজদের কাছ থেকে হাতছাড়া হয়ে যায়। এটি চলে আসে ডাচদের নিয়ন্ত্রণে। ক্ষমতার পালা বদলে এটি পরে ব্রিটিশ মালিকানায় আসে ১৮০০ সালে। যাদের হাতেই এসেছিল ক্যাসলটির নিয়ন্ত্রণ, ভাগ্য বিড়ম্বিত আফ্রিকান ক্রীতদাসদের জীবনে তা বয়ে আনেনি কোনো পরিবর্তনের ছোঁয়া। আমেরিকায় ক্রীতদাস ব্যবসার অবসান ঘটে ১৮০৭ সালে।




Loading...
ads




Loading...