সূর্যগ্রহণে মানতে মানা যত কুসংস্কার



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০১ জুলাই ২০১৯, ১৭:৪৮

চাঁদ এসে পৃথিবী আর সূর্যের মাঝখানে পড়লে ঘটে সূর্যগ্রহণ। পূর্ণ সূর্যগ্রহণে চাঁদের ব্যাস সূর্যের ব্যাসের তুলনায় বড় দেখায়। এতে একটি পৃথিবীর বড় অংশজুড়ে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না।
বিস্ময়কর হলেও সত্য, বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ ঘটলেও সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে এখনো মানুষের মধ্যে কুসংস্কার রয়েছে। সূর্যগ্রহণ নিয়ে যেসব কুসংস্কারে কান দেবেন না তা নিয়েই এ লেখা।

প্রসূতি মায়েদের ভয়
সূর্যগ্রহণের সময় জন্ম নেয়া শিশুদের ব্যাপারে দুই ধরনের গপ্প শুনতে পাওয়া যায়। এক, শিশুটি অসুস্থ হবে এবং দুই, শিশুটি চালাক হবে। তবে এ দুটি ধারণার কোনোটার ক্ষেত্রেই বিশ্বাস করার মতো যুক্তি বা তথ্য পাওয়া যায় না।
প্রাচীন অ্যাজটেক সভ্যতায় বিশ্বাস করা হতো, চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের এক টুকরো খেয়ে ফেলা হয়। ম্যাক্সিকান সংস্কৃতিতে এটা বিশ্বাসে পরিণত হয়, প্রসূতি মা সূর্যগ্রহণ দেখলে তার অনাগত সন্তানের এক টুকরো খেয়ে নেবে দেবতারা!

কাত হয়ে শুতে বারণ
সূর্যগ্রহণে গর্ভবতী মায়েদের শান্তি নেই। সেন্ট লুইসে অবস্থিত মার্সি হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট শাফিয়া ভুট্টোর মতে, সূর্যগ্রহণের সময় পাকিস্তানে মায়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চিত করে শোয়ানো হতো। নইলে নাকি গর্ভের শিশু বিকলাঙ্গ হয়! বাংলাদেশেও এ ধারণার অস্তিত্ব রয়েছে। তবে গর্ভে শিশুকে রেখে চিত হয়ে শোয়াটা মায়েদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

ধাতব অলংকার পরা, খাবার ও টয়লেটে বারণ
ধাতব অলংকার পরতে বারণ করা আছে ‘অ্যাস্ট্রোসেইজ’ নামে এক জ্যোতির্বিদ্যা সাইটে। অন্যদিকে ম্যাক্সিকান কুসংস্কারে, গ্রহণ চলাকালীন ধাতব অলংকার পরাকে উৎসাহিত করেছে। মেক্সিকোর প্রসূতি মায়েরা পেটের কাছে ধারালো ছুরি রাখতেন যেন গ্রহণের সময় সন্তানকে ঠোঁট কাটা রোগ থেকে বাঁচানো যায়।
প্রচলিত আছে, সূর্যগ্রহণের ১২ ঘণ্টা এবং চন্দ্রগ্রহণের ৯ ঘণ্টা আগে থেকে খাবার গ্রহণ করা বারণ। এ সময় যৌন সংসর্গ বারণ, নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মলমূত্র ত্যাগেও। তবে এসব ধারণার সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ নেই এবং নিশ্চিত ভাবেই কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

তবে যে সংস্কারটি মানবেন তা হলো:

সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানো বারণ। এই সংস্কার অবশ্যই মানবেন। সত্যি বলতে, যেকোনো সময়েই সূর্যের দিকে সরাসরি তাকাতে নেই। সে হোক গ্রহণের সময়, কিংবা স্বাভাবিক সময়ে। সূর্যগ্রহণ দেখতে কাঁসার পাত্রে পানি থেকে শুরু করে ব্যবহার হয়েছে কাজে লাগে না এমন এক্স-রে প্লেটও। এখন অবশ্য বিশেষ রোদচশমা দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। আজকের গ্রহণ সামনে রেখে ভালোই বিকোচ্ছে এসব। দেখে শুনে ভালো মানের এমন চশমা কিনতে পারেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার মধ্যদুপুরে দক্ষিণ মহাসাগরের ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার মুতুওয়ারা দ্বীপের বাসিন্দা আর বলিভিয়ার বাসিন্দারা দেখতে পাবেন এই পূর্ণগ্রাস। আশপাশের অঞ্চল থেকেও দেখা যাবে আংশিক গ্রহণ। তবে বাংলাদেশে এ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না, গ্রহণের সময় যে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়।

সূর্যগ্রহণ নিয়ে কোনো কুসংস্কারে পাত্তা দেয়ার কোনো মানে নেই। আপনি যদি প্রসূতি মা হয়ে থাকেন, নিজের শরীরের যত্ন নিন। অনাগত সন্তানের জন্য শরীরে যথেষ্ট পুষ্টির ব্যবস্থা করুন।

সূত্র: ইউএসএ টুডে, কেএসএল ডট কম।



Loading...
ads


Loading...