তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা বাদ ২০২১ সাল থেকে

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা বাদ ২০২১ সাল থেকে
তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা বাদ ২০২১ সাল থেকে - ছবি: প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৫৫

প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা বাদ দিয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২১ সাল থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো.জাকির হোসেন সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ, এ, এম মঞ্জুর কাদির ও উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক স্বপন কুমার ঘোষ উপস্থিতি ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সাল থেকে প্রাথমিকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আর পরীক্ষা দিতে হবে না । প্রতি মাসে শ্রেণি কক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। ২০২০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ১০০টি স্কুলে প্রাথমিকে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ফাইল চালাচালি চলছে।

তিনি বলেন, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে অক্ষর জ্ঞান দান, অব্যাহত ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কর্মসংস্থান, আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশু-কিশোরদের শিক্ষার বিকল্প সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সরকার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন’ ২০১৪ প্রণয়ন করেছে।

জাকির হোসেন বলেন, সাক্ষরতা বিস্তার, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির জন্য ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, ২০২১ সালে নতুন পাঠ্যসূচিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। তার আগে ২০২০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে একশ স্কুলে এ ব্যবস্থা চালু হবে। সামেটিভ পরীক্ষা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত রাখব না, ফরমেটিভ পরীক্ষা রাখব। অর্থাৎ রাউন্ড দ্য ইয়ার তারা পরীক্ষা দেবে।

২০২১ সালে নতুন কারিকুলামের পুরো বাস্তবায়ন হবে জানিয়ে সচিব বলেন, “গতাণুগতিক প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক এবং বার্ষিক পরীক্ষা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে না। সারা বছরেই ক্লাসে মূল্যায়ন করা হবে। শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীর আচার-আচরণ সবগুলো বিষয় মূল্যায়ন করে গ্রেড দেয়া হবে।”

বাংলাদেশের ৬৫ হাজার ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় না, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। সরকারি প্রাথমিকে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করা হয় ২০১৪ সালে। প্রাক-প্রাথমিকের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ২০১৮ সালের প্রাথমিক সমাপনীতে অংশ নেয়। দেশের শিক্ষাবিদরা পঞ্চম শ্রেণির পিইসি পরীক্ষাও তুলে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন, তবে তাতে সরকার সাড়া দিচ্ছে না।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads




Loading...