ওসি মোয়াজ্জেমের আগাম জামিনের বিরোধিতা করবে রাষ্ট্রপক্ষ



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১১ জুন ২০১৯, ১৮:৩১

নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। ওসির এ আবেদনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেলের কক্ষে এ কথা জানান তিনি।

এরআগে গত ২৯ মে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ওসির পক্ষে অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা আবেদনটি করেন।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের আগাম জামিন আবেদনের শুনানি যেদিনই হোক; ওসি জামিন নিতে এলে রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করবে।

মুরাদ রেজা বলেন, আজ হাইকোর্টে মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদনের মামলা কজলিস্টে রাখা হয়নি।

রাফি হত্যাকাণ্ডে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর গত ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর থেকেই তিনি লাপাত্তা। পরিবার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কেউই তার কোনো খোঁজ জানে না।

রাফি হত্যাকাণ্ডে প্রত্যাহার হওয়া ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ব্যারিস্টার সুমনের মামলাটি প্রথমে অভিযোগ আকারে ছিল। পরে পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত। ওসির বিরুদ্ধে থানায় রাফির বক্তব্য ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে প্রমাণিত সব তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিবেদন আদালতকে দেয়া হয়।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এ অভিযোগে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে রাফি ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছেন রাফি। সেই কান্না ভিডিও করেন ওসি। রাফি তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রেখেছেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবার ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি বলেন, এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়ম ভেঙে রাফিকে জেরা ও তা ভিডিও করেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে যান ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে চার-পাঁচজন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে উদ্ধার করে স্বজনরা সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফি মারা যান। এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া ও মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস



Loading...
ads


Loading...