বিক্ষোভে হংকং বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিল



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৩ আগস্ট ২০১৯, ০৩:০০

হংকং বিমানবন্দর ঘিরে গত চারদিন ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে অন্তত শতাধিক ফ্লাইট সিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। মঙ্গলবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়। এতে বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়েছেন আগে নির্ধারিত টিকিটের যাত্রীরা।

হংকং নগরীর নেতা কেরি ল্যাম বলেছেন, গণতন্ত্রকামী চলমান বিক্ষোভের অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা শহরটিকে একটি বিপদের পথে নিয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, গত পাঁচদিন ধরে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়েছেন। তারা বন্দরটির মূল টার্মিনালে ভিড় করলে; পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সোমবার (১২ আগস্ট) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০ এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করে দেয়।

তুমুল আন্দোলনের মুখে সোমবার প্রথম বিমানবন্দরটির সব ফ্লাইট বাতিল করে কর্তৃপক্ষ বিবৃতিতে বলেছিল, অব্যাহত বিক্ষোভের কারণে বিমানবন্দরের কাজ অনেক বেশি ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে চেক-ইন সম্পন্ন হয়েছে, এমন ছাড়া সব ফ্লাইট স্থগিত করা হচ্ছে। এসময় যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শও দেয়া হয়।

নতুন কোনো ফ্লাইটকে হংকং বিমানবন্দরে দিকে না আসতে তারা অনুরোধ করে। তবে যেসব ফ্লাইট এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছেছে তাদের অবতরণ করতে দেয়া হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

প্রতিবছর হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন আরোহী যাতায়াত করে। ২০১৮ সালে ওই বিমানবন্দরকে প্রধান ট্রানজিট হাব হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গত শনিবার কর্মসূচি শুরুর পর হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বিমানবন্দরের মূল টার্মিনালে প্রবেশ করেন। এ জন্য যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। হংকংয়ের নেত্রী ক্যারি ল্যাম বিক্ষোভ থামাতে বিক্ষোভকারীদের হুশিঁয়ার করে দিয়েছেন।

চীনে বন্দি প্রত্যর্পণ নিয়ে দুই মাস আগে প্রস্তাবিত একটি বিল বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠা হংকংয়ের বিক্ষোভ এখন স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে হংকংয়ের এক তরুণ তাইওয়ানে এক নারীকে হত্যা করে হংকংয়ে চলে আসেন পালিয়ে। তখন তরুণকে বিচারের মুখোমুখি করতে তাইওয়ান ফেরত চাইলে হংকং আইনি জটিলতার কথা বলে। এ প্রেক্ষাপটে প্রত্যর্পণ আইনটি হংকংয়ের নিজস্ব আইনে প্রণীত করার প্রস্তাব আসে। আইনে বলা হয়েছে, বেইজিং, ম্যাকাও ও তাইওয়ান থেকে পালিয়ে আসা কোনো অপরাধীকে ফেরত চাইলে তাকে ফেরত দিতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads




Loading...