সমকামী মেগানকে নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১০ জুলাই ২০১৯, ১৭:১৯

মেয়েদের বিশ্বকাপ বিজয়ী আমেরিকা টিমের ক্যাপ্টেন মেগান রাপিনো এখন বিশ্বে মেয়েদের ফুটবলের অন্যতম মুখ। সে দেশে তাকে নেতাও মানছেন অনেকেই। এর অন্যতম কারণ ছেলেদের বিশ্বকাপের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন মেগান। গত রোববার ফাইনালে গ্যালারি থেকে আওয়াজ উঠেছে, 'ইক্যুয়াল পে'।

সেই আওয়াজ একটা গ্যালারি থেকে আর একটা গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়েছে। খোদ ফিফা প্রেসিডেন্টের সামনে পর্যন্ত সমান অর্থের দাবি উঠেছে। এখানেই শেষ নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েদের বিশ্বকাপের সঙ্গে ছেলেদের বিশ্বকাপের ছবি দিয়ে তুলনা করা হয়েছে। একটা কাপের ক্ষেত্রেও কী রকম বৈষম্য?

পরিবর্তনের মুখ হিসেবে শুধু ফুটবলাররা নন, তার দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই। রোববার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গলা মেলাননি টিমমেটদের সঙ্গে। এই বিশ্বকাপের শুরু থেকে একই ঘটনা চলছে। তা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছেন।

সেই মেগান সুর পাল্টাননি বিশ্বকাপের শেষেও। গোল করার পরে দু'হাত ছড়িয়ে তার উৎসব, গোটা বিশ্বে এখন সিম্বল। ছয়টি গোল, তিনটি অ্যাসিস্ট, সোনার বল ও সোনার বুট তারই দখলে। জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার বিতর্কে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটে মেগানকে উদ্দেশ্যে করে লিখেছিলেন, 'কথা পরে হবে। নিজের কাজটা আগে করতে হবে।' আক্ষরিক অর্থে তা করে দেখিয়েছেন মেগান।

বিশ্বকাপ জয়ের পরে আমেরিকার কোচ জিল এলিসের মন্তব্য, 'শুধু ফুটবল নয়, আজকের যাবতীয় সবকিছুর পিছনে মেগান।' মেগান বলেছেন, 'আমরা যা করেছি, তা বিশ্ব ফুটবলে সেরা বিজ্ঞাপন হতে পারে। প্রত্যাশার চাইতেও বেশি। কে কী বলল, তা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় আমাদের নেই। আরও অনেককিছু করা দরকার।'

বিশ্বের সাতটি দেশের ক্লাবে খেলেছেন। অভিজ্ঞতা সমুদ্রে বিচরণ করছেন। আমেরিকার কিংবদন্তি গোলকিপার হোপ সোলোর পরেই তার নাম উঠে আসছে। সেই হোপ সোলো বলছেন, 'মেগান শুধু ফুটবলার নয়। বিশ্বের অনন্য একটি নাম।'

আমেরিকাতে এলজিবিটি আন্দোলনে মেগানের নাম উল্লেখ করার মতো। ফাইনালের গ্যালারিতে আমেরিকার সমর্থনে গলা ফাটিয়েছেন মহিলা এনবিএ তারকা সু বার্ড। সমকামী মেগানের বান্ধবী তিনি। দু'বছর ধরে ডেটিং চলছিল তাদের মধ্যে। বার্ডের নামের পাশে চারটি অলিম্পিক সোনা। চারটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সোনা। গত বছরই ইএসপিএনের ম্যাগাজিনে দু'জনের ছবি দিয়ে বলা হয়েছিল, আমেরিকা প্রথম একই সেক্সের দম্পতি।

এ সবে কিছু যায় আসে না মেগানের। মেয়েদের ফুটবলে সমান অর্থের দাবিকে গোটা ফুটবল বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে। বিশ্বজয়ের পরে তার মন্তব্য, 'সমান অর্থের দাবিকে শুধু বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করা নয়, সেই দাবিকে আদায় করার চেষ্টা করে যেতে হবে। এটা শুরু। জানি না, শেষ কোথায়। ফিফা পারবে না, এই দাবিকে নস্যাৎ করতে?'

বিশ্বজয়ের পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট্ট টুইট, 'আমাদের ফুটবল টিম যা করেছে, তার জন্য দেশ গর্বিত। সকলকে অভিনন্দন।' সেখানে মেগানের নামে কোনো কথা লেখা নেই। তা নিয়ে আলোচনা বিশ্বজুড়ে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস



Loading...
ads


Loading...