ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ঢাবি'র গবেষকের দেয়া ৬টি পরামর্শ



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪১

দেশজুড়ে চলছে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা। এটি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। ঘরে ঘরে সন্ত্রস্ত অবস্থা। আগলে রাখছে প্রিয় বাচ্চাটিকে কিংবা অন্য কোনো প্রিয়জনকে। না জানি কখন এডিস মশা কামড় দিয়ে বসে। আতঙ্ক সৃষ্টি এমনিতে হয়নি। এডিস মশা শুধু কামড় দিচ্ছে না, সঙ্গে সঙ্গে কামড়ের কারণে সৃষ্ট ডেঙ্গুজ্বর নামক রোগটির মতিগতিও বদলে দিচ্ছে। গতবারের তুলনায় ডেঙ্গুর রূপ অনেকটা বদলে যাওয়ার কারণে ডাক্তাররাও হিমশিম খাচ্ছেন। ডেঙ্গুর বর্ণচোরা ভাবটা টেনশনে ফেলে দিয়েছে সবাইকে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে তা বুঝেও দিনে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কাজের সময় শেষ করে দিয়ে রাতে সজাগ থাকার দিন শেষ। ডেঙ্গু রোধে বিলম্ব না করে আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। নগদ ব্যবস্থা নিতে হবে অনেক রকমের।

১. মশা নিধনের ওষুধ কেনার সিন্ডিকেটগুলো পুরোপুরি জনস্বার্থে ভেঙে দিতে হবে শক্তহাতে।

২. সব সিটি কর্পোরেশন আর পৌরসভাগুলোতে মশানিধন কর্মীদের কাজকর্ম মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. ডেঙ্গু টেস্টের মূল্য তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; সম্ভব হলে টেস্ট ফি’র খরচ সরকার থেকে বহন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. সচেতনতা বাড়ানোর জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে শহরে, গ্রামে, গঞ্জে সর্বত্র। মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন, স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানরা এ ব্যাপারে সক্রিয় ভ‚মিকা রাখতে পারেন। এগিয়ে আসবেন দলমত নির্বিশেষে সবাই। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন নিজ নিজ এলাকায়। কথা কম বলে নজর দিতে হবে কাজের দিকে। জনগণ কথাওয়ালা নেতাকর্মীদের পছন্দ করেন না, চিরকালের এ সত্য কথাটিকে ভুলে যাওয়া মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা।

৫. নজর দিতে হবে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল পরিষ্কারের দিকে। মারতে হবে লার্ভা, একই সঙ্গে ইতোমধ্যে জন্ম নেয়া মশা। এডিসের ডিম ধ্বংসের ব্যবস্থা নিতে হবে। না নিলে বিপর্যয় অনিবার্য। কারণ, এডিস মশার ডিম শুকনা পরিবেশে ৯ মাস পর্যন্ত সক্রিয় থাকে, নষ্ট হয় না। যখনই স্বচ্ছ পানির সংস্পর্শে আসে তখন তা লার্ভা হয় এবং পরিপূর্ণ মশায় রূপ নেয় (আলোকিত বাংলাদেশ, ৩০ জুলাই ২০১৯, পৃ ৩)।

৬. শহরের সব ড্রেনে ছেড়ে দিতে হবে শতে শতে কাতল-রুই মাছের পোনা যারা খেয়ে সাবাড় করবে মশার লার্ভা (মশার ওষুধের ব্যবসায়ীরা হয়তো একে হাস্যকর বলে গুজব ছড়াবে তাদের ব্যবসার অকল্যাণ হওয়ার ভয়ে)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজির একজন গবেষক এরূপ পরামর্শ দিয়েছিলেন অনেক বছর আগে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...