সবুজ ঢাকা গড়ার প্রত্যশায় ‘গ্রিনক্লাব’


poisha bazar

  • সাবিরা ইসলাম
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৫

ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। উপায় হবেই। তবে শুধু ইচ্ছে থাকলেই হবে না। ইচ্ছের গতি হতে হবে প্রবল। বিজ্ঞজনরা কী বলেন? বলেন, স্বপ্ন সেটা নয় যেটা আমরা ঘুমের ঘোরে দেখি। স্বপ্ন তো সেটাই যেটা কাউকে ঘুমোতে দেয় না যতক্ষণ পর্যন্ত না তা বাস্তবায়িত হয়। যা মানুষকে বাস্তবায়ন করতে তাড়িত করে। সমস্যা নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু কিছু মানুষ রয়েছেন যারা কঠিনেরে জয় করেই এগিয়ে চলছেন নিজেদের স্বপ্নবাস্তবায়ন করতে। তাদের স্বপ্নগুলো এমন যে তা পুরণ হলে ব্যক্তি নিজে ভালো থাকার পাশাপাশি বাঁচবে দেশ, বাঁচবে দেশের মানুষ।

বিশ্বব্যাপী পরিবেশ রক্ষা এখন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত প্রয়োজনের চাপের কাছে হেরে যাচ্ছে প্রকৃতি। বাড়ছে মানুষ, বাড়ছে প্রয়োজন। চাহিদার যোগান দিতে কাটা পড়ছে গাছ, মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে বিশাল বিশাল ভবন। রাস্তায় গাড়ির কালোধোঁয়া, বাতাসে ধুলো আর রাসায়নিকের মিশ্রণ। নিঃশ্বাস আটকে আসা জীবন। কার্বোডাই অক্সাইড থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো সবুজায়ন।

সমস্যাসঙ্কুল ঢাকা শহরে কিছু তরুণ স্বেচ্ছায় দায়িত্ব তুলেছে নিয়েছেন নিজেদের কাঁধে। তাদের লক্ষ্য ঢাকা বাসীকে ফুলেল পরিবেশ উপহার দেয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের কিছুটা হলেও অক্সিজেন সরবরাহ করা। তারা গড়ে তুলেছেন ‘গ্রীণক্লাব’ নামে একটি সংগঠন। উদ্দেশ্য সবুজ ঢাকা গড়ে তোলা। একবছর আগে যাত্রা শুরুর নেতৃত্বে ছিলেন অনীক ইসলাম জাকী। ‘গ্রীনক্লাব’ এর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

সমমনা সহযোদ্ধা হিসেবে সঙ্গে রয়েছেন সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ আসাদুজ্জামান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ রাশিদা হক, যুগ্ম সম্পাদক সাগরনন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক তাইয়েবাহ হক, দফতর সম্পাদক শাহরিয়াল আফরোজ রেনু, শাহরিয়ার তানভীর রিফাত, কামরুল হাসান শুভ, কার্যনির্বাহী সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা সাথী, রহিমা আক্তার তানিয়া, আয়েশা সিদ্দিকা পিনু, নিলা কায়সার, তানিয়া আহমেদ আরো কিছু উচ্ছল তারুণ্য। এদের সবার বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় রয়েছে নানা জাতের ফুল, ফল, ঔষধি, শাক-সবজি ও সৌন্দর্য বর্ধনকারী গাছ।

একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে যাত্রা শুর’ হওয়া স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। এরা সবাই কোনো না কোনো ভাবে বাগানের সঙ্গে জড়িত। বাগান ভালোবাসেন।

এসব বাগানে পরিচিত ফলের পাশাপাশি আছে আলুবোখারা, কাশ্মীরি আপেল কুল, মীরাক্কেল, চেন্নাই আঙুর, মিসরীয়ডুমুর, তেজপাতা, লোকাম, লোকাট, রামবুটান, কাঠলিচু ও ড্রাগনফলের গাছ। যা কিনা নতুন নতুন ফল ও গাছের সঙ্গেও আমাদের পরিচয় ঘটাতে পারে। আরো রয়েছে নানা জাতের দেশি-বিদেশি ফুলগাছের সমারোহ।

অনিক বলেন, ‘ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করতেই আমরা এই সংগঠন গড়ে তুলি। যারা বাগান করেন বা করতে চান তাদের আমরা প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিই। শুধু ফেসবুক গ্র’পের মধ্যেই নয়, কয়েকমাস পর পর মত বিনিময় সভার মাধ্যমে আমরা গাছ বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য আদান প্রদান করি।’

এ ছাড়া গ্রিনক্লাব এই সভায় আগ্রহীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক, চারা ও যন্ত্রপাতি বিতরণ করে থাকে। তবে বয়োজ্যেষ্ঠ বাগান প্রেমীদের বাড়িতে গিয়ে সহযোগিতা করে থাকে ক্লাবের সদস্যরা। সম্প্রতি বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ‘গ্রীনক্লাব এর সকল সদস্য সারা বাংলাদেশে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসুচি পালন করেছে। নগরসবুজায়নে বিশেষ অবদানের জন্য গ্রীনক্লাব সম্প্রতি পেয়েছে ‘প্রতিক্ষণ ফাউন্ডেশন লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড ২০১৯।

গ্রিনক্লাবের রয়েছে নিজস্ব অনলাইন নার্সারি। ‘সবুজ ঢাকা নার্সারি’ নামের এই অনলাইন শপ-এর মাধ্যমে কম দামে ঘরে বসেই পাওয়া যাবে চারা, সার, বীজ, মাটি, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। এই নার্সারি করার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনিক জানান, অনলাইনে বাগান-সংক্রান্ত পণ্য কিনতে গিয়ে অনেকেই প্রতারিত হন। এক গাছের কথা বলে অন্যগাছ কুরিয়ার করা হয়। এই বিড়ম্বনা থেকে বাগানপ্রেমীদের বাঁচাতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’

গ্রিনক্লাবের এই উদ্যোগে ঢাকা শহর আরো সবুজ, আরো দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠুক। ইট, কাঠ, পাথরের এই কাটখোট্টা শহরে মানুষ বুকভরে নিক বিশুদ্ধ অক্সিজেন এই প্রত্যাশা।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads




Loading...