ঈদুল আযহায় আপনার সন্তানকে যেভাবে ত্যাগের শিক্ষা দেবেন



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১২ আগস্ট ২০১৯, ০০:১৯

ঈদ ও আযহা দুটিই আরবী শব্দ। ঈদ এর অর্থ উৎসব বা আনন্দ। আযহার অর্থ কুরবানী বা উৎসর্গ করা। এদিন মুসলমানরা পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করে। এই প্রচেষ্টার সফলতায় যে আত্মিক আনন্দ তাই ঈদুল আযহা নামে অভিহিত হয়।

ঈদুল আযহা আমাদেরকে ত্যাগ ও প্রীতির শিক্ষা দেয়। ধনীরা তাদের ওপর ফরজ কর্তব্য হিসেবে পশু কোরবানি করে। সেসব পশুর গোস্ত আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেন। তৈরি হয় সহানুভূতিশীল একটি সমাজ। ঈদুল আযহার এই ত্যাগ ও ভালোবাসার শিক্ষা তা ছড়িয়ে দিতে হবে শিশু-কিশোরদের মাঝে। ঈদুল আযহায় কিভাবে ছোটদেরকে ত্যাগের শিক্ষা দেয়া যায়? তা নিয়েই আজকের এই লেখা।

১. অনেক সময় দেখা যায়, ত্যাগের শিক্ষা নেয়ার এই ঈদ অনেককেই বরং অহংকারী করে তোলে। কত বড় গরু দিলাম দেখেছ! আমি কী হনুরে! এই অহংকার ছোটদের মনেও ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বড়দেরকে খুব সাবধান থাকতে হবে। সুকৌশলে কোরবানির মর্মার্থ ও ত্যাগের মহিমা শিক্ষা দিতে হবে। আর মনে রাখতে হবে, বাচ্চারা কিন্তু দেখে শেখে।

২. ঈদে দামী ড্রেস শো করা, দামী গিফট পাওয়া এগুলো যেন তাদের কাছে মুখ্য বিষয় না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে।

৩. কোরবানি দিতে বড়দেরকে খুব ছোটখাটো কাজে হলেও সাহায্য করার শিক্ষা দিতে হবে ছোট বাচ্চাদের। এছাড়া সমবয়সী বাচ্চারা সাহায্যের জন্য এলে বাচ্চাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের শিক্ষা দিতে হবে।

৪. বড়দের কাছ থেকে ঈদের সালামী জোরপূর্বক চেয়ে নেয়ার প্রবণতাকে খারাপ বলে বোঝাতে হবে। ঈদে আপনার বাচ্চাকে সবার বাড়িতে যেতে দিন।

৫. বাড়িতে আসা মেহমানদের সামাজিক অবস্থান ভেদে ভিন্ন ভিন্নভাবে আপ্যায়ন করা যাবে না। তাতে শিশুরা মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ণ না করে তাদের টাকা-পয়সার ভিত্তিতে গুরুত্ব দিতে শিখবে। মনে রাখতে হবে, বাচ্চাদের মানসিক গঠন এসব পারিবারিক সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

৬. অবুঝ বাচ্চাদের হাত দিয়ে কাউকে কিছু দেয়া অবশ্যই ভালো ব্যপার। কিন্তু কখনো কখনো এর প্রভাব বাচ্চার জন্য নেতিবাচকও হতে পারে। সে নিজেকে দাতা হিসেবে ভেবে নিয়ে অহংকারী হয়ে উঠতে পারে। তাই তাকে আগে দানের সঠিক মহিমা সম্পর্কে উপলব্ধি করানো উচিত।

৭. সর্বপরি মনে রাখতে হবে যে, বাচ্চাদেরকে কেবল মুখে মুখে শিখিয়ে আসলে কিছুই হয়না। শেখাতে হয় নিজেদের কাজ ও আচরণের মাধ্যমে ব্যবহারিকভাবে। নিজেদের সৎ সরল জীবন যাপন আর পরিশীলিত আচরণ স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চাদেরকে প্রভাবিত করে। শিক্ষা আপনা আপনি তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে যায়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...