সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে কবে

মানবকণ্ঠ
সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে কবে - মানবকণ্ঠ।


  • সম্পাদকীয়
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩০

দেশের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম সড়কপথ। যাত্রী পরিবহন থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন সবক্ষেত্রে সড়কপথের গুরুত্ব তুলনাহীন। নিত্যদিনের যাত্রায় দেশের মানুষের নির্ভরতা তাই সড়ক পথেই বেশি। কিন্তু যাত্রীদের জন্য সড়কপথ আজ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। জাতীয় দৈনিকগুলোর এক সংবাদ তথ্য মতে, গত রোববার রাতে ও সোমবার সারাদিনে সাত জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে দু’জন, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও নোয়াখালীতে একজন করে মারা যায়। সড়ক দুর্ঘটনার এ চিত্র নিত্যদিনের। প্রতিদিনই কোনো না কোনো জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুসারে গত পাঁচ বছরে ১২ হাজার ৫৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।

বলা যায়, সড়কে নিত্যদিন চলছে মৃতুর মিছিল। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, সড়কপথে যাত্রা শুরু করে কোনো যাত্রীই নিশ্চিত নয় যে নিরাপদে শেষ গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। যানবাহনে চেপে বসলে সব সময় এক অজানা আশঙ্কা তাড়া করে, কখন যেন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। এই রকম শঙ্কা নিয়ে যাত্রাপথে আতঙ্কের মধ্যে চলতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। প্রশ্ন উঠতেই পারে, সড়কপথে দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যুর মাত্রা কেন এত অস্বাভাবিক?

দেশের সড়কগুলোয় শৃঙ্খলা আনতে বেশ কয়েকটি সড়ককে ফোর লেন করা হয়েছে। আন্ডারপাস, ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে যাত্রী সাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৫টি আন্তর্জাতিক রুটে বাস চলাচল করছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা, শৃঙ্খলা, চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষ চালকদের দৌরাত্ম্য, অযাচিত প্রতিযোগিতা এসব কিছুই কমেনি। এসব কারণে নিত্যদিন বাড়ছে মৃত্যুর মাত্রা।

রাজধানী শহর ঢাকার গণপরিবহনগুলোতেও আজও শৃঙ্খলা ফেরেনি। ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা যানবাহন চলছেই, যথেচ্ছ পার্কিং ও মাঝপথে যাত্রী ওঠা-নামাও চলছে। চালকের বেপরোয়া মনোভাব বন্ধ হয়নি। ফলে সড়কে প্রতিদিন রক্ত ঝরছেই। অকালে প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ পথচারী কিংবা যাত্রীরা। দুর্ঘটনা ঘটানোর কারণে বিশেষভাবে অভিযুক্ত যেসব পরিবহনের চলাচল নিষিদ্ধ হয়, সেগুলো নিজস্ব প্রভাবের জোরে গাড়ির নাম এবং রং পরিবর্তন করে আবার নতুন নামে চলাচল শুরু করে। অনেকের প্রশ্ন, রুট পারমিট নিয়ে এবং নতুন নামে সড়কে ওইসব যান নামানোর এত সাহস মালিকরা পায় কীভাবে? সংবাদ তথ্য মতে, রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীসহ অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিবহন ব্যবসায় জড়িত। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। আর এসব ব্যক্তির গাড়ির বেপরোয়া চালকরা বেশি দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে।

একটি দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি বলা যায় যাতায়াত ব্যবস্থাকে। যে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা যত উন্নত, সে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, শিক্ষা-সংস্কৃতি-চিাকৎসা তত উন্নত। যাতায়াত ব্যবস্থার সহজীকরণ ছাড়া একটি জাতির কোনো দিক অগ্রসর হতে পারে না। মূলত একটি জাতির আসল পরিচয়ই উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা দিয়ে শুরু হতে পারে। যে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা যত সহজতর, সে দেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশে যাবতীয় যোগাযোগ তত নিবিষ্ট। কিন্তু আমাদের দেশের সড়কের দুর্ঘনাগুলো রাস্তার করুণ অব্যবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। হোক রাজধানী কিংবা রাজধানীর বাইরে; কোনো প্রভাবশালী মালিকের ছত্রছায়ায় চালকরা বেপরোয়া হয়ে গাড়ি চালাবে, রাস্তায় মানুষ মারা যাবে এটা হতে পারে না। অবশ্যই রাস্তায় বিধি মেনে, ফিটনেসযুক্ত গাড়ি, দক্ষ চালকদের মাধ্যমে চালাতে হবে। সে সঙ্গে সড়কগুলোর মান চলাচলের উপযোগী রাখতে হবে। তাহলেই দেশব্যাপী সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...