ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

মানবকণ্ঠ
ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে - সম্পাদকীয়।


  • সম্পাদকীয়
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:২৭

পানির ওপর নাম জীবন। কারণ পানি ছাড়া শরীর কোনোভাবেই সুস্থ রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু সে পানি যদি বিশুদ্ধ না হয় তবে তা বিপদের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে অসুস্থ হলে ওষুধ আমাদের সুস্থ করে তোলে। কিন্তু সে ওষুধ যদি মান ঠিক না রেখে তৈরি করা হয় তবে তা উপকারের পরিবর্তে আরো বেশি ক্ষতি ঘটাতে পারে। একইসঙ্গে ওষুধের মূল্য সাধারণের নাগালের মধ্যে না থাকলে তা সাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হবে এটাই স্বাভাবিক।

৯ সেপ্টেম্বর দৈনিক মানবকণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীতে পাইকারি বাজারে বেড়েছে ওষুধের দাম। বেশকিছু খুচরা বাজারেও পড়েছে এর প্রভাব। কিছু ক্ষেত্রে দোকান ভেদে দামের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়েছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের পাশাপাশি বিক্রেতারাও বিপাকে পড়েছেন। ওষুধ অধিদফতর বলছে, সরকারের পরিকল্পনায় কিছু ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে তবে এই সুযোগে বিক্রেতারা আরো অনেক ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমাদের দেশে যে কোনো কিছুর ইচ্ছে হলেই দাম বাড়ানো যায়। এর পেছনে যুক্তিও তৈরি করা থাকে। কিন্তু কারণগুলো বিলুপ্ত হলেও পণ্যের দাম আর কমে না। কোনো কোনো ওষুধের দাম যদি বৃদ্ধি করা জরুরিই হয় তবে সরকার তা জনগণকে জানিয়ে করতে পারে যে কেন কী কারণে পণ্যটির মূল্য বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের কোনো বার্তা কখনই জনগণকে দেয়া হয় না। ফলে ক্রেতারা পণ্য কিনতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। বিক্রেতারাও ইচ্ছেমতো মূল্য নিতে ক্রেতাদের বাধ্য করার সুযোগ পান। লক্ষ করলে দেখা যাবে, যে ওষুধগুলো সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ব্যবহƒত হয় সেইসব ওষুধেরই দাম বাড়ানো হয়েছে। যদি সরকার মনে করে থাকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ বেশি ব্যবহার হচ্ছে এবং তা বন্ধ করতেই সরকার এ ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এর যুক্তি নেই। কারণ পেটে গ্যাসের কারণে কেউ হাজার টাকা ভিজিট এবং নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হাজার টাকা খরচ করে কেউ ২০/৫০ টাকার গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ কিনতে যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবনের প্রবণতা রোধ করতে হলে চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

ওষুধ কিনেই শারীরিক সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে এমন নয়। কারণ বিশ্ব বাজারের যে কটি দেশে বাংলাদেশে তৈরি ওষুধ রফতানি হয় সেগুলোর মান সন্তোষজনক। কিন্তু একই কোম্পানির ওষুধের মান দেশীয় বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সেবন করে মানুষ সুস্থতার বদলে আরো বেশি অসুস্থতার কবলে পড়ে। অথবা নতুন কোনো শারীরিক জটিলতার শিকার হয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে সরকার অবশ্যই জনস্বার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়। ওষুধের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ লক্ষ রাখা হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট মহল অচিরেই কার্যকর পদক্ষে নেবে-এমন প্রত্যাশা আমাদের।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...