ডেঙ্গু আতঙ্ক আর ঈদ উৎসব



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৯ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৩১

ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু। ধারণ করছে অপ্রতিরোধ্য রূপ। সারাদেশে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৯১ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজারে পৌঁছেছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৩০০ ছাড়িয়েছে। এখন দেশের মানুষ রয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্কে। অনুভূতি জেগে থাকে, কখন মশা কামড়ে দেয়? কামড়ালেই আবারো আতঙ্কিত হয়, মশাটা কি ডেঙ্গুর জীবাণু বাহক এডিস? এভাবেই মানুষের সকাল-সন্ধ্যা কাটে। দেশের হাসপাতালগুলোয় ডেঙ্গু রোগী প্রতিদিনই বাড়ছে। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ানো হচ্ছে চিকিৎসার পরিধি। সব হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে প্রাধান্য দিয়ে তৎপর রয়েছেন ডাক্তার-নার্সরা। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো কোনো হাসপাতালে বাড়ানো হচ্ছে বেড়ের সংখ্যা। হাসপাতালগুলো এখন ডেঙ্গু রোগী আর তাদের আত্মীয়স্বজনের পদভারে ক্লান্ত।

ডেঙ্গু আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। ডেঙ্গুর আতঙ্ক আর উৎসবের আনন্দ মানুষের মাঝে তৈরি করছে আরেক ভিন্নতা। একদিকে আনন্দ অন্যদিকে আতঙ্ক মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে অন্য চিন্তার বলয়ে। মানুষ ঈদের কেনাকাটার সঙ্গে, অধিক সতর্কতার অংশ হিসেবে কিনছে মশার কয়েল, মশা মারার স্প্রে, সঙ্গে মশারিও। সাধারণত এডিস মশার জন্ম হয় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে। সেই সূত্রে আরেক সন্দেহজনক জন্মস্থল রাজধানীর বড় উন্নয়ন প্রকল্প মেট্রো রেলের গর্তগুলোয় জমে থাকা পানি। এ পানিকে এ বছরের ছড়িয়ে পড়া এডিসের আরেক জন্মস্থল মনে করা হচ্ছে। বাস্তবতা যদি তাই হয়, তাহলে এসব জায়গায় এডিসের লার্ভা নিধনে নজর দেয়া প্রয়োজন।
নগরকে সবুজায়ন করতে আর নিজেরা একটু সতেজ বাতাস পেতে অনেকে শখের বশে ছাদকৃষি করছেন। বাসার ছাদে ছাদে করা হয়েছে নানা ফলফুলের ছোট বাগান।

এসব বাগানে টবে করে লাগানো হয়েছে নানাজাতের গাছ। এ গাছগুলোকে বাঁচাতে দেয়া হয় সকাল-সন্ধ্যা পানি। টবগুলোয় জমে থাকা পানিকে এডিসের আরেক জন্মস্থল মনে করছেন নাগরিকদের কেউ কেউ। এডিসের বংশ বিস্তার রোধে এসব ছাদবাগানের টবগুলোতেও নজর রাখা দরকার। সরকারের সঙ্গে সাধারণ মানুষও মশা ছড়ানোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখছে। কীভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে রাজধানী শহর ঢাকা থেকে প্রতিটি জেলায়। সাধারণত মশার ছড়িয়ে পড়ার পথ ধরে এডিস মশার এই চলাচল বলে মনে করা হচ্ছে। আর তার প্রতিকারে নেয়া হচ্ছে ব্যবস্থা।

ডেঙ্গু আক্রান্তের কেন্দ্রস্থল রাজধানী ঢাকা। এই রাজধানী থেকে দূরপাল্লার যেসব বাস বিভিন্ন জেলা অভিমুখে ছেড়ে যায়, সেই বাসগুলোকে এডিস মশার বাহন হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। যাত্রীদের সঙ্গে এসব বাসে এডিস মশা চলে যাচ্ছে জেলা শহরগুলোয়। জেলায় জেলায় মশা ছড়ানোর এটাও একটা কারণ হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় মশা ছড়ানো প্রতিরোধে এখন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, বাস ছাড়ার ঘণ্টাখানেক আগে প্রতিটি দূরপাল্লার বাসে মশা মারার স্প্রে করতে হবে, অধিক সতর্কতার অংশ হিসেবে। মশা ছড়ানোর আরেক বাহন মনে করা হচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোকে। যাত্রী সাধারণের সাহচর্যে ট্রেনযোগে এডিস মশা চলে যাচ্ছে প্রতিটি রেলস্টেশনে। এভাবে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন গন্তব্যের স্টেশন এলাকায়।

এখন থেকে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোয় যাত্রী ওঠার আগে মশা মারার স্প্রে করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নিজস্ব ভগার মেশিন কিনে বড় একটি স্টেশন এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা মশা মারার ধোঁয়া ছড়ানো হচ্ছে। এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে অন্যান্য আয়োজনের পাশাপাশি প্রধান আতঙ্ক ডেঙ্গু বিষয়ে সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বলা যায়, এটা আতঙ্কের ভেতরেও আশার কথা। তবে এখনো পর্যন্ত কার্যকর মশা মারার ওষুধ না আসায় মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে বড় করে দেখছে সচেতন মহল। যত দ্রুত সম্ভব মশা মারার কার্যকর ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে। আনন্দ-হতাশার মাঝে সবার জন্য ঈদ হোক নিরাপদ- এই প্রত্যাশা আমাদের।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 




Loading...
ads




Loading...