বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজন প্রণোদনা



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৯ আগস্ট ২০১৯, ১৮:২৭

প্রতি বছরের মতো এবারো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাখো মানুষ। অন্যান্য বছরের চেয়ে প্রাকৃতিক ভয়াবহতা কিছুটা কম হলেও ক্ষতির মাত্রা কিন্তু কম বলা যাবে না। এ ক্ষতির ধকল সইতে সাধারণ মানুষ কতটা সমর্থ তা সহজে অনুমেয় নয়।

এ দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের পেশা কৃষি। আর বন্যা সাধারণত নদী-নালা, মাঠ-ঘাট ভাসিয়ে কৃষকসমাজের ক্ষতি করে বেশি। এবারের বন্যায় আউশ, আমনসহ বিভিন্ন ফসলের ৮০ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণও ৯০ হাজার হেক্টরের বেশি। আর অর্থের পরিমাণে এই ক্ষতি দাঁড়িয়েছে, ৬ লাখ ৫৩ হাজার কৃষকের ১ হাজার ১৫৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

তবে এবার আউশের ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশিই বলা যায়। বিশেষ করে কৃষক সমাজ এই ক্ষতি সামাল দিতে হিমশিম খাবেন। সারাদেশে আউশের ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫ হেক্টর জমির মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২১ হাজার ৬২ হেক্টর জমি আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে ২৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমির ফসল। এ কারণে এ বছর ৯১ হাজার ৮৮৬ টন ধান কম উৎপাদনের শঙ্কা রয়েছে। আর ৯৭ হাজার ১৮৪ কৃষককে আর্থিক ক্ষতি গুনতে হবে ২৫২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। সেই অর্থে বন্যা এ বছর কৃষির ব্যাপক মাত্রার ক্ষতির কারণ। শুধু ধান নয়, অন্যান্য সবজি জাতীয় ফসলেরও প্রভৃতি ক্ষতিসাধন হয়েছে। বিশেষ করে, মরিচ, চিচিঙ্গা, করলা, চালকুমড়া, পটোল, ঝিঙ্গা, কাঁকরোল, ঢেঁড়স ও শসার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। ১১ লাখ ৭ হাজার ৫৪৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮ হাজার ৪৬৮ হেক্টর ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির সবজি। তাছাড়া পাট, পানবরজ, আখ ও কলার ক্ষতি হয়েছে মাত্রাতিরিক্ত। এক অর্থে এবারের বন্যা এসেছিল কৃষক সমাজের জন্য বড় ধরনের অভিশাপ হয়ে।

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩১টি জেলাই বন্যাকবলিত। সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, ফেনী, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, রাজশাহী, নাটোর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পাবনা, দিনাজপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, নওগাঁ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা আক্রান্ত হয়েছে বেশি। এসব জেলার মানুষ বন্যায় কোনো না কোনোভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের একার পক্ষে এ ধকল সামলে ওঠা প্রায় অসম্ভব। এ জন্য সরকারকে বিষয়টি ভেবে দেখে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। যেসব জেলার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের তালিকা তৈরি করে প্রণোদনা দেয়ার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে সামনের দিনগুলোয় কৃষিকে টিকিয়ে রাখা খুবই দুরূহ হবে। তালিকাভুক্ত জেলাগুলোতে অবশ্যই কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের চিত্র সরেজমিনে সংগ্রহ করা দরকার। আর সে অনুযায়ী কতটা প্রণোদনা কিংবা ঋণ-সহায়তা দেয়া যায়, তা সরকারকে ভেবে দেখতে হবে। আমরা মনে করি, সাধারণ কৃষিজীবীদের স্বার্থে সরকারকে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...