মৃত্যুর ফাঁদ সেপটিক ট্যাঙ্ক



  • ০৩ আগস্ট ২০১৯, ১৯:২৬

দেশে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ করেন কিছু শ্রমজীবী। ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই বিষাক্ত গ্যাসে মারা যান কেউ কেউ। আর এ ধরনের দুর্ঘটনা দেশের নানা প্রান্তে হরহামেশাই ঘটে। শিরোনাম হয় সংবাদপত্রে। সচেতনতার অভাবে এসব দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে যায় কিছু নিরীহ প্রাণ।

মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, কয়েকদিন আগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে নিস্তেজ হয়ে যান এক শ্রমিক। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে একে একে পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সূত্র মতে, ২০১৮ সালে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে ৩৮টি দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ২১ জন।

এসব দুর্ঘটনা সেপটিক ট্যাঙ্ক ছাড়া ম্যানহোল, ক‚প ও পানির ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়েও ঘটে। দীর্ঘদিন মাটির নিচের গর্ত বদ্ধ অবস্থায় থাকলে এর মধ্যে নানা ধরনের বিষাক্ত গ্যাস সৃষ্টি হয়। মাটির নিচের ওই সব সেপটিক ট্যাঙ্ক বা ম্যানহোল পরিষ্কার করতে শ্রমিকরা ঢুকলেই আর বের হতে পারেন না। বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাস রুদ্ধ হয়ে মারা যান। এসব গ্যাসের মধ্যে থাকে অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফাইড, সালফার ডাই অক্সাইডসহ সালফারের অন্যান্য গ্যাস, মিথেন ও বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড। ওই গর্তগুলো দীর্ঘ দিন বদ্ধ থাকার কারণে ওইসব গ্যাস ক্রমশ ঘন হয়ে যায়। এক সময় গর্তগুলোয় অক্সিজন স্বল্পতার সৃষ্টি হয়। কখনো কখনো এ ধরনের বদ্ধ কূপ একেবারে অক্সিজেনশূন্য হয়ে যায়। যখনই কোনো শ্রমিক ওই সব গর্তে প্রবেশ করেন, তখনই আবদ্ধ গ্যাসের ঘনত্বে ডুবে সংজ্ঞাহীন হয়ে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন পাশের সহমর্মী শ্রমিকরা দুর্ঘটনাকবলিত শ্রমিককে উদ্ধারে গিয়ে একই পরিণতির শিকার হন। এসব অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা ঘটে শ্রমিকদের সচেতনতার অভাবে। সেপটিক ট্যাঙ্ক, ম্যানহোল, কূপ ও পানির ট্যাঙ্কে যে বিষাক্ত গ্যাস জমা হয়, এটা শ্রমিকদের পাশাপাশি মালিকদের জানা উচিত। ওইসব মাটির নিচের গর্ত পরিষ্কারের আগে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। ওই গর্তগুলোয় পরিচ্ছন্ন অভিযান চালানোর আগে এর অভ্যন্তরীণ অবস্থা কতটা নিরাপদ তা পর্যবেক্ষণ করে তার পরই কাজ শুরু করা উচিত। কোনো কিছু না বুঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। এজন্য সেপটিক ট্যাঙ্ক বা ক‚পের মালিককে যেমন সচেতন হওয়া উচিত, তেমন সচেতন হওয়া উচিত শ্রমজীবী মানুষগুলোকেও। সবাইকে আনা উচিত সচেতনতার সরলরেখায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির নিচের কোনো গর্তে সংস্কার কাজে নামার আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে। যদি অক্সিজেন সংকট তীব্র থাকে তাহলে হারিকেন বা কুপিবাতি জ্বালিয়ে দড়িতে বেঁধে ওই সব গর্তে নামালে দপ করে নিভে যাবে। তাছাড়া গাছের পাতাযুক্ত ডাল দড়িতে বেঁধে গর্তে ঢুকিয়ে নাড়াচাড়া করলে অক্সিজেনের চলাচল কিছুটা বেড়ে যেতে পারে, সেই সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে কিছু বিষাক্ত গ্যাস। এছাড়াও ছোট মুরগির বাচ্চার পায়ে দড়ি বেঁধে গর্তে নামালে যদি সেটি নিস্তেজ হয়ে যায় বা মারা যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে গর্তটি বিপজ্জনক। তাহলে ওই সব গর্তে নামার আগে অক্সিজেন মাস্ক অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত।

সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে ঢুকে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা এ দেশে নতুন কোনো বিষয় নয়। এসব দুর্ঘটনা প্রতি বছর দেশের কোনো না কোনো এলাকায় ঘটে। সচেতনতার অভাবে বছর বছর এভাবে কিছু মানুষের অকালে প্রাণ বিসর্জন কখনোই কারো কাম্য হতে পারে না। এজন্য সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।




Loading...
ads




Loading...