গ্যাসের দাম কমাতে হবে



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৩ জুলাই ২০১৯, ১৯:২৪

চলতি বছরের মার্চ মাসে গণশুনানির পর সব পর্যায়ে গ্যাসের দাম গড়ে ৩২.৮ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সেই ঘোষণা অনুযায়ীই ১ জুলাই থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে রান্নার গ্যাসের জন্য চুলাভিত্তিক গ্রাহকদের প্রতি মাসে ২৩ শতাংশ এবং মিটারভিত্তিক গ্রাহকদের ৩৮ শতাংশ বেশি অর্থ খরচ হবে। যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে যারা সিএনজি ব্যবহার করেন, তাদের খরচ বাড়বে সাড়ে ৭ শতাংশ। বলা হচ্ছে, এলপিজিতে ভর্তুকির ভার লাঘব করার জন্য সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এতে যে সরকারের খুব একটা লাভ হবে তা নয়। যা হবে তা হলো সাধারণ মানুষের ব্যয়বৃদ্ধি।

দৈনন্দিন ব্যয়ভার বহন করতে তাদের নাভিশ্বাস উঠে যাবে। ইতোমধ্যে সর্বমহলে বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বিজিএমইএ বলছে, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তৈরি পোশাকের উৎপাদন খরচ এক শতাংশ বেড়ে যাবে। যদি এমনটি হয় তবে দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাতে এর বিরূপ প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক। গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ জনগণের স্বাভাবিক জীবনমানকে ক্ষতিগ্রস্ত তো করবেই, সরকারকেও প্রতিটি খাতে এজন্য ভর্তুকি গুনতে হবে। শিল্পোদ্যোক্তারা গ্যাসের দাম বৃদ্ধিকে শিল্প উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করেন। কারণ এতে শিল্প উৎপাদন ব্যয় আরো বেড়ে যাবে। উৎপাদন কমে যাবে। শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই যদি হয় তবে সরকার কার স্বার্থে গ্যাসের দাম বাড়নোর সিদ্ধান্ত নিল তা বোধগম্য নয়।

সারাবছরে রাজধানীজুড়ে অনেক এলাকায় সারাদিনে চুলায় গ্যাসের দেখা পাওয়া যায় না। পেলেও তা এতটাই টিমটিমে যে, এতে প্রয়োজনীয় কোনো কাজই করা সম্ভব নয়। যে কারণে অনেক গৃহিণীকে রাত জেগে চুলার গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয় যাতে সে সারাদিনের রান্না রাতেই করে রাখতে পারেন। দিনের পর দিন পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করতে এই রাত জাগার কারণে শারীরিকভাবে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু মাস শেষে তাকে বা তাদেরও সরকার নির্ধারিত গ্যাস বিল প্রদান করতে হবে। অন্যদিকে গ্যাস সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কী পরিমাণ অনিয়ম-দুর্নীতি হয় তা কারো অজানা নয়। পিয়ন থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতনদের অনেকেও হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। এসব যে জনগণের রক্তচোষা অর্থ তা কারো জানতে বাকি নেই। সরকার সেই সব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে জনগণের ওপরই আরো বোঝা চাপিয়ে দিল। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকাংশই যে দুর্নীতিবাজ তা এখন আর ধামাচাপা দেয়ার সুযোগ নেই। বিভিন্ন তথ্য প্রমাণে তা স্পষ্ট। তবুও এদেরই বেতন-ভাতা নানা সুবিধা বাড়ে। আর সাধারণ মানুষ শুধু দুর্ভোগেরই শিকার হয়। এতে সরকারের প্রতি অসন্তোষ বাড়ে। বিরোধীপক্ষ আন্দোলনের সুযোগ পায়।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মসূচিও দিয়েছে। ধারণা করা যায়, এতে সাধারণ মানুষের সাড়াও পাওয়া যাবে। কারণ এটি একটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু। আমরা চাই সরকার বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করুক। এলপিজিতে ভর্তুকির ভার লাঘব করার নামে চতুর্মুখী দুর্ভোগ সৃষ্টির কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হোক-এটা কারো কাম্য নয়।




Loading...
ads




Loading...