মানব পাচার রুখতে হবে



  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০২ জুলাই ২০১৯, ১৬:০৫

এ দেশে মানব পাচার মামলায় বিচার পাওয়া বেশ দুরূহ বিষয়- এমন চিত্র তুলে ধরে মানবকণ্ঠে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিচার চেয়ে উল্টো বিচারপ্রার্থীদের ওপর নেমে আসে বিপদ, তাদের ওপর চলে প্রাণনাশের হুমকি। মানব পাচার মামলায় দ্রুত শাস্তি না হওয়ার কারণে এই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মানব পাচার একটি জঘন্য অপরাধ। এটি সমাজে তৈরি করে মানবিক সংকট। আর এই পাচারের কবলে পড়ে বেশিরভাগই নারী-শিশু। এই নারী-শিশুদের চাকরি পাইয়ে সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে ঠেলে দেয়া হয় অন্ধকার জগতের কালো অধ্যায়ে। তাদের জড়িয়ে দেয়া হয় পতিতাবৃত্তির মতো অমানবিক পেশায়। এসব অপহৃত নারী-শিশুকে একের পর এক হাত বদলে বিক্রি করা হয়।

সাধারণত অজপাড়া গ্রামের গরিব ঘরের অসহায় যুবতী মেয়েদের পাচারকারী চক্র টার্গেট করে। চক্রের প্রথম স্তরের সদস্যরা আশপাশের পরিচিত কাউকে প্রলোভন দিয়ে ফাঁদ পাতে। কর্মহীন যুবতী মেয়েরা সহজ শিকারে পরিণত হয় এই চক্রের। পরিবার, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী- সবার অজান্তে একদিন অপহরণকারী চক্রের কাউকে অবলম্বন ভেবে ওই সব নারী রাতের আঁধারে পাড়ি জমায় অজানার উদ্দেশ্যে। যখন বুঝতে পারে, তখন সব শেষ হয়ে যায়, কেটে যায় সচ্ছলভাবে বাঁচার রঙিন স্বপ্নের ঘোর। পাচারের শিকার এসব নারীর যাওয়ার পথ অনেক সময় সরল হলেও ফেরার পথ হয় জটিল। অনেকে জীবনের মূল্যবান অনেক কিছু হারিয়ে ‘সব শেষ হয়ে গেছে’ ভেবে ওই অন্ধকার পল্লী থেকে আর ফিরতে চায় না।
মানব পাচারের ক্ষেত্রে যাও বা দু-চারটা মামলা হয়, তার বিচার পাওয়া হয়ে যায় সুদূরপ্রসারী। বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হয় বাদীকে।

এই দীর্ঘসূত্রতার জন্য মামলার আসামিরা উল্টো বাদীকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। বেশিরভাগ মামলায় এমন চিত্র দেখা গেছে। এক সময় বাদীরা বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা হারিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এ দেশের আদালতগুলোয় মামলাজটের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। একটি বিচারের জন্য বিশ বছর ধরে আদালতে ঘুরছেন এমন বাদীও পাওয়া যায়। ১৪ জুন আইনমন্ত্রী সংসদে মামলাজটের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের উচ্চ আদালতসহ দেশের আদালতগুলোয় বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৭টি। আরেক তথ্যে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আদালতে বিচারধীন মামলার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৯ হাজার ৭৮৯টি ছিল। দুই বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখে। এর মধ্যে যারা বিচার পায়, তাদের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আসামির শাস্তি হয়।

এই যদি হয় দেশে মামলার অবস্থা, তাহলে বিচারপ্রক্রিয়া এগোবে কী করে? একটি মামলার বিচারের জন্য বাদী বিশ বছর যাবৎ আদালতে ঘুরছেন- এমন নজিরও আছে। এই দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার ফলে আসামিরা অনেক সময় বাদী পক্ষের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা রকম হুমকিধমকিমূলক আচরণ করে। তারা অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে। যার ফলে বাদী পক্ষের মাঝে তৈরি হয় বিচার না-পাওয়ার হতাশা। মানব পাচার একটি সামাজিক অপরাধ। এই অপরাধ সমাজে রুখতে হলে বিচারব্যবস্থার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হবে। মানব পাচারের মামলাগুলো যেন আরো দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়কে আরো সহজ প্রক্রিয়ার কথা ভাবতে হবে, দিতে হবে জোর তাগিদ- এটাই সবার কামনা।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...