রিফাত হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই



  • ২৮ জুন ২০১৯, ২০:৪৩

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরীফ নামের এক যুবককে স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কারণ রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার চিহ্নিত বখাটে নয়ন বন্ড যার নামে স্থানীয় থানায় এখনো ১০/১২ টি মামলা রয়েছে সে স্ত্রী বলে দাবি করেছে এবং এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিন্নির আপত্তিকর ছবি পোস্ট করা নিয়ে রিফাত ও নয়ন বন্ডের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এর জের ধরেই রিফাতকে এভাবে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পুরো সময়ের স্থির ও ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সেসব দৃশ্য দেখে হঠাৎ করে বিশ্বাস করা কঠিন বাস্তবে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এটাও ঠিক, এই ঘটনা আবারো বিশ্বজিত হত্যার মুহূর্তগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে। এভাবেই প্রকাশ্যে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে বিশ্বজিতকে হত্যা করা হয়েছিল। শত কাকুতি মিনতি করেও বিশ্বজিত রক্ষা পায়নি। বিশ্বজিত হত্যার বিচার হয়েছে। তবে সে বিচার নিয়ে অনেকেরই অসন্তোষ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এ রকম একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যে ধরনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া জরুরি ছিল তা হয়নি। বিশ্বজিত হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হলে সন্ত্রাসীরা নতুন করে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর দুঃসাহস পেত না-এমন মতও রয়েছে তাদের।

হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া দুজনের পরিচয় ইতোমধ্যে জানা গেছে। এতে অংশ নেয়া অপর একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের অত্যাচারে এলাবাসী অতিষ্ঠ। নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিফাত ফরাজী ও নয়ন বন্ডকে বারবার গ্রেফতার করা হলেও নিয়মিত বিরতিতে তারা জামিনে বেরিয়ে আসত এবং আরো বেশি করে তাণ্ডব চালাত। সঙ্গতই প্রশ্ন জাগে, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তাদের কয়েকবার গ্রেফতার করার পরও কেন আটকে রাখা যায়নি? এর পেছনে কি কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী হস্তক্ষেপ রয়েছে নাকি আইনের ফোকর গলে বেরিয়ে এসেছে?

হত্যাকাণ্ডটি যে পরিকল্পিত তা ঘটনার পূর্বাপর বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়। হত্যাকাণ্ডের সময় আশপাশে যারা অবস্থান নিয়েছিল তারা খুনিদের সহযোগী বলে সন্দেহ না করার কারণ নেই। কারণ কোনো সাধারণ মানুষ এত নৃশংস একটি ঘটনা এভাবে নির্বিকার দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারে না। আর কিছু না হলেও তারা ভয়ে বা আতঙ্কে চিৎকার করে উঠত। রিফাতের স্ত্রী মিন্নিও বলেছেন, প্রথমে এরাই রিফাত ও মিন্নির আটকে মারধর করে। পরে নয়ন ও রিফাত হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। এই ঘটনায় দেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে যে আস্থাহীনতা প্রকাশ করা হচ্ছে তা সুখকর নয়। এতে অপরাধীদের স্পর্ধা বেড়ে যেতে পারে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

লক্ষণীয়, যারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে তারা সবাই যুবক বয়সী। এই প্রজন্মের কাউকে কাউকে স্বার্থবাদীরা তাহলে ব্যবহার করছে, ভুল পথেও দিকে ঠেলে দিচ্ছে কিনা এমন প্রশ্ন ইতোমধ্যে উঠেছে। কারণ রাজনৈতিক বা প্রভাবশালীর সহায়তা ছাড়া কেউ এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে না। আমরা চাই, নেপথ্যে যে বা যারা নয়ন ও রিফাতদের সন্ত্রাসী হয়ে ওঠার জন্য দায়ী তাদেরও তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 




Loading...
ads




Loading...