কঠিন সমীকরণের মুখে বাংলাদেশ



  • মহিউদ্দিন পলাশ
  • ১২ জুন ২০১৯, ১০:২৮

লন্ডন থেকে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সকাল থেকেই বারবার খবর নিচ্ছেন ব্রিস্টলের আবহাওয়ার। টিকিট কেটে ব্রিস্টলে আসার সব প্রস্তুতি তার সম্পন্ন। শুধু খেলা হওয়ার গ্রিন সিগন্যাল পেলেই দলবল নিয়ে গাড়ি করে রওনা হবেন। শুরু হয় তার অপেক্ষার পালা। এভাবে অপেক্ষা করতে করতে বেলা ১টার দিকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন না আসার। ধরেই নিয়েছেন খেলা আর হবে না। তার প্রায় ১ ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিকভাবে আসে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার ঘোষণা। সেই সঙ্গে শেষ হয় বিরূপ আবহাওয়ার সঙ্গে মোকাবিলা করে ব্রিস্টলসহ আশপাশের এলাকা থেকে আসা অগণিত প্রবাসী বাঙালিদের অপেক্ষার প্রহরও। হতাশ বদনে মুুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যায় বি স্টলের কাউন্ট গ্রাউন্ড। এই নিয়ে ব্রিস্টলে বিশ্বকাপে টানা দুটি ম্যাচই পরিত্যক্ত হলো। এর আগের ম্যাচটি ছিল শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের। ৪ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৩। শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৪। বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল। শ্রীলঙ্কা প্রথম ম্যাচে ১০ উইকেটে হেরেছিল নিউজিল্যান্ডের কাছে। পরের ম্যাচে আফগানিস্তানকে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৩৪ রানে হারিয়ে পেয়েছিল প্রথম পয়েন্ট। এরপর ২ পয়েন্ট পায় পরপর দুই ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়া থেকে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য সেমিতে যাওয়া। সেখানে শ্রীলঙ্কার সে রকম কোনো লক্ষ্য নেই। কিন্তু বৃষ্টির কল্যাণে দুই ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট পেয়ে তারা বেশ ভালোভাবেই আছে সেমিতে যাওয়ার লড়াইয়ে। সেখানে এভাবে এক পয়েন্ট হারিয়ে বেকায়দায় বাংলাদেশ। কারণ সেমিতে খেলতে হলে বাংলাদেশ যে পাঁচটি দলকে হারানোর পরিকল্পনা করেছিল তাদের একটি ছিল শ্রীলঙ্কা। এখন এই এক পয়েন্টের ঘাটতি পোষাতে হলে বাংলাদেশকে ভারত অথবা অস্ট্রেলিয়া যে কোনো এক দলের কাছ থেকে পয়েন্ট পেতে হবে। দলনেতা মাশরাফি নিজেও মনে করছেন সে রকমই। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আমরা টানা দুই ম্যাচ হেরেছি। এরপর এভাবে এক পয়েন্ট হারানোর কারণে আমাদের সামনে এখন কঠিন লড়াই। যে কোনো দলের জন্যই খেলতে না পারা হতাশার। আমাদের পরের ম্যাচ উইন্ডিজের বিপক্ষে টনটনে। এই ম্যাচ আমাদের জয়ের বিকল্প নেই।’ কিন্তু মাশরাফিকে ভাবাচ্ছে টনটনের ছোট মাঠ। ছোট মাঠে প্রতিপক্ষ উইন্ডিজ হওয়াতে তার টেনশন বেশি। তিনি বলেন, টনটনের ছোট মাঠে উইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ হবে না। জেতার জন্য আমাদের খুবই ভালো খেলতে হবে।’

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ যে মাঠে গড়াতে পারবে না তা ম্যাচের আগের দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাসেই জানান দিয়েছিল। তারা দিনই ছিল গুঁড়িগুঁড়ি কখনো ভারি বৃষ্টির আভাস। ইংল্যান্ডের ত্রি ডব্লিউর একটি হলো ওয়েদার বা আবহাওয়া। সেখানে যখন-তখন পরিবর্তন আসে। এই আশায় বুক বেঁধেছিলেন বাংলাদেশ দল থেকে শুরু করে সমর্থকরা। কিন্তু কোনো পরিবর্তন আসেনি। ম্যাচের আগের দিন বিকেল থেকে শুরু হয়েছিল বৃষ্টির খেলা। সাথে প্রচণ্ড বাতাস। সেই থেকে সারারাতই হয়েছে থেমে থেমে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। ভোরের আলো ফুটে ওঠার পরও সেখানে নেই কোনো পরিবর্তন। সেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। তখনই এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে যায় খেলা না হওয়ার। তারপরও আগের দিন থেকেই ইংল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্রিস্টলে এসে জড়ো হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা মাঠে এসে হাজির হন। সময় বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শকদের উপস্থিতি। বেলা ৯টার দিকে বৃষ্টি থেমে আসে। আকাশও কিছুটা পরিষ্কার হয়ে আসতে থাকে। মাঠ ভেজা থাকায় শুরু হয় শুকানোর কাজ। তবে নির্ধারিত সময় খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। সবকিছু বিবেচনা করে আম্পায়াররা যে সময় খেলা শুরু হবে সেই সকাল সাড়ে দশটায় মাঠ ইনসপেকশনের সময় ঠিক করেন। কিন্তু এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই আবার শুরু বৃষ্টি শুরু হলে আম্পায়াররা মাঠ ইনসেকশনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। সেই যে শুরু হয় বৃষ্টি খেলা পরিত্যক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আর খুব কম সময়ই থেমেছে। যখনই থেমে এসেছে, তখন বাংলাদেশের দর্শকদের হর্ষধ্বনিতে মাঠ উত্সবমুখর হয়ে ওঠে। বৃষ্টি আসার সঙ্গে সঙ্গে আবার সেই হর্ষধ্বনি থেমে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির বেগও বাড়তে থাকে। অতঃপর স্থানীয় সময় বেলা ১.৫৭ মিনিটে আম্পায়াররা খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস




Loading...
ads




Loading...