পলাশে মাল্টা চাষে ভাগ্য বদল

পলাশে মাল্টা চাষে ভাগ্য বদল
পলাশে মাল্টা চাষে ভাগ্য বদল - ছবি: প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • সংবাদদাতা, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৫১

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের কৃষক আশরাফ হোসেন। নিজের জমিতে বহু বছর ধরে বিভিন্ন কৃষি জাতীয় ফসল চাষাবাদ করে আসছেন তিনি। কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার তিনি ২০ শতাংশ জমিতে দেশীয় মাল্টার আবাদ করেছেন। চারা রোপণের মাত্র দুই বছরের মাথায় প্রতিটি গাছে ফলন এসেছে অনেকটা চোখে পড়ার মতো। আর এই মাল্টা চাষের মধ্য দিয়ে নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক আশরাফ হোসেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, প্রথম বারের মতো পলাশ উপজেলায় বাণিজ্যিক ভাবে বারি-১ দেশীয় জাতের মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ জাতীয় মাল্টার ২০টি প্রর্দশনী বাগান করা হয়েছে। প্রতিটি বাগানে আশানুরুপ ফলন এসেছে।

সরেজমিনে পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামে কৃষক আশরাফ হোসেনের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে সবুজ রঙের মাল্টা। মাল্টার আকাড় গুলোও বেশ বড়।

কৃষক আশরাফ হোসেন মানবকণ্ঠকে জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় প্রথম বারের মতো জমিতে মাল্টার চাষ করেছে। বাগানে প্রায় ৬০টি মাল্টার গাছ রয়েছে। দুই বছর আগে চারাগুলো কৃষি অফিস তাকে বিনামূল্যে বিতরণ করে। প্রতিটি গাছে ১২০/১৫০টি করে মাল্টার ফলন এসেছে। আগামী ১৫/২০ দিনের মাথায় ফলন সংগ্রহ করতে পারবে বলে আশা করছেন কৃষক আশরাফ।

তিনি বলেন, এর আগে এই জমিতে কলার আবাদ করেছিলাম। মাল্টার ভাল ফলন পেয়ে এখন এটি বড় আকারে করার চিন্তা করছি। ইতোমধ্যে মাল্টায় পাক ধরেছে। সেগুলো খেতে বেশ রসালো ও মিষ্টি। তাই মাল্টা চাষ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছি।

আশরাফ হোসেনের এই বাগান দেখে আশেপাশের অনেক কৃষক এখন এ জাতের মাল্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। মাল্টা চাষে আগ্রহী ওই গ্রামের রনি পাল জানান, এতদিন লিচু-পেয়ারার বাগান করেছি। এখন মাল্টা বাগান করব বলে চিন্তা করছি। আগে থেকে আমরা এই ফলটির চাষাবাদ নিয়ে তেমন পরিচিত ছিলাম না। কৃষক আশরাফের বাগানের ফলন দেখে এখন এলাকার অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে।

জিনারদী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম মিয়া জানান, দুই বছর আগে বিনামূল্যে বারি-১ জাতের মাল্টার চারাসহ উপকরণ বিতরণ করা হয়ে ছিল। এই এলাকার মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় কৃষকদের মাল্টা চাষের পরামর্শ দেয়া হয়ে ছিল। তারা প্রথম বারের মতো হওয়ায় এ আবাদ নিয়ে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিল। তবে আমরা নিয়মিত তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি। এখন বাগান জুড়ে মাল্টা ফলায় কৃষকরা বেশ খুশি।

তিনি জানান, মাল্টার ফলন ভালো হয়েছে। মাল্টা খেতেও বেশ সুস্বাদু। আগামীতে মাল্টার আবাদ অনেক বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম মানবকণ্ঠকে জানান, পলাশ উপজেলার জিনারদী, চরসিন্দুর ও ডাঙ্গা ইউনিয়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি বাগানে বারি-১ জাতের মাল্টার আবাদ করা হয়েছে। এ জাতীয় মাল্টা পাকা অবস্থায়ও সবুজ রঙ হয়ে থাকে। বাজারে বিদেশী মাল্টার রঙ হলুদ রঙের হয়ে থাকে। বিষমুক্ত এ জাতের মাল্টায় কোনো প্রকার কেমিকেল ব্যবহার করে হলুদ বর্ণ না করার জন্য কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads




Loading...