ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে গৃহবধূকে বিয়ে, অতঃপর...


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:২৭

মানিকগঞ্জে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে এক নারীকে বিয়ে করেছেন মুরসালিন নামের এক যুবক। ধর্ষণের ভিডিও দিয়ে জিম্মি করে ওই নারীর স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্ত্রীর মর্যাদা না পেয়ে ওই নারী বুধবার পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মুরসালিন বাবু তিল্লি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত আব্দুস সালামের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার পাড়তিল্লি এলাকার ওই নারীর সাথে পান্নু মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলামের ধর্মীয় মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের দুই বছর পর ওই নারী একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এর প্রায় দেড় বছর পর রফিকুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান। বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই ওই নারীর সাথে রফিকুল ইসলাম খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। সে ঠিকমত ওই নারীকে সাংসারিক খরচ দিতো না।

এরই মধ্যে তিল্লি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মুরসালিন বাবু ওই নারীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। ওই নারী প্রস্তাবে রািজ না হলে সে বিভিন্ন সময় তাকে উত্ত্যক্ত করত। মুরসালিন বাবু আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলে এবং এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে তার সাথে ওই নারীর প্রেমের সর্ম্পক হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় চার বছর আগে মুরসালিন একদিন তার বাড়িতে ওই নারীকে যেতে বলে। ওই নারী তার কথায় ওই বাড়িতে গেলে মুরসালিন বাবু তার অজান্তে খাবারের মধ্যে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে একাধিকবার ধর্ষণ করে তার বিবস্ত্র ভিডিও সংক্ষরণ করে রাখে। কয়েকদিন পর মুরসালিন বাবু পুনরায় ওই নারীকে তার বাড়িতে ডেকে ওই সংরক্ষিত মোবাইলের ভিডিও দেখায় এবং তাকে বিবাহ করতে বলে। যদি ওই নারী আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে তাকে বিবাহ না করে তাহলে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে বলে হুমকি দেয়।

পরে ভুনিরুপায় হয়ে ক্তভোগী ওই নারী প্রস্তাবে রাজি হলে গত ২০১৬ সালের ০৭ জুন কোতয়ালী ঢাকা কাজী অফিসে ধর্মীভাবে ৪ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। (বিবাহের ভলিউম নং- ১৫/১৬ এন, পৃষ্ঠানং-২১, ক্রমিক নং-২১)। বিয়ের পর মুরসালিন সৌদি চলে যায়। এরপর মুরসালিন বাবু ওই নারীকে সৌদি আবর নিয়ে যায়। পরে ৪০ দিন রেখে তাকে পুনরায় দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

দেশে এসেই মুরসালিন বাবু ওই নারীর সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে এবং সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ওই নারী একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। অতঃপর ওই নারী নিরুপায় হয়ে আইনি সহায়তা পেতে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী ওই নারী বলেন, মুরসালিনের বিরুদ্ধে তার অপকর্মের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি তার অপকর্মের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

বিয়ের বিষয় অস্বীকার করে মুরসালিন বাবু জানায়, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিল্লি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads




Loading...