ড্রেসিং টেবিলে স্ত্রীর খণ্ডিত লাশ, স্বামী পলাতক

ড্রেসিং টেবিলে স্ত্রীর খণ্ডিত লাশ, স্বামী পলাতক


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৩ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৫

দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীর হাত-পা ও মস্তক বিহীন লাশের পাঁচ খণ্ড করে ড্রেসিং টেবিলে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ময়নাতদন্ত শেষে জানা যায়, ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার নিজাম উদ্দিনের মেয়ে সুমি আক্তারের (২৩) লাশ এটি। তার স্বামী মো. মামুনের (৩৫) সঙ্গে গাজীপুরের আসপাড়া মোড় এলাকায় নাইম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি।

শ্রীপুর থানার এসআই রাজীব কুমার সাহা জানান, সোমবার বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো এক নারীর মৃত দেহের পাঁচ খণ্ড উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার নিজাম উদ্দিনের মেয়ে সুমি আক্তারের (২৩) বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুমি শ্রীপুর উপজেলার গিলারচালা এলাকার সাবলাইম গ্রিনটেক নামের পোশাক কারখানার সুইং অপারেটর ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এটা ছিল উভয়ের দ্বিতীয় বিয়ে। স্বামী ওই এলাকায় ইলেক্ট্রিশিয়ানের কাজ করেন। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।

তবে উদ্ধার হওয়া দেহের অংশ গুলো নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা কেউ কেউ পচে গলে যাওয়া দেহের অংশকে কোরবানির গোশত বলে প্রচার করতে থাকে। এদিকে উদ্ধার হওয়া অংশগুলো মানুষের কিনা তা নিশ্চিত হতে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর মানব দেহের অংশ নিশ্চিত হওয়া যায়। মঙ্গলবার দুপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ওই লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতের ছোট বোন বৃষ্টি একই কারখানায় চাকুরি করেন। বৃষ্টি একই এলাকায় অন্যত্র ভাড়া থাকেন। বৃহস্পতিবার বেতন দিয়ে কারখানায় ঈদের ছুটি হয়ে যায়। শুক্রবার তাদের একই সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার কথা। সুমি কারখানা থেকে ঈদ বোনাস ও বেতনসহ ৩০হাজার টাকা পেয়েছেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য ওই টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার সকালে বাড়ি যাওয়ার সময় সুমিকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও না পেয়ে বৃষ্টি ও তার স্বামী নবী হোসেন গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা বাড়িতে পৌঁছে একাধিকবার বড় বোন ও ভগ্নীপতির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাদের ফোন বন্ধ পান।

শনিবার বৃষ্টি ও তার স্বামী আসপাড়া মোড় এলাকায় বোনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে কাউকে না পেয়ে ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকেন। সেখানে কাউকে না পেয়ে ফিরে যান তারা। পরে শনিবার সকালে তারা আসপাড়া মোড় এলাকায় মামুনের সন্ধান পান এবং তাকে ধরে ভাড়া বাসার দিকে রওনা দেন। এক পর্যায়ে মামুন তাদের ভাড়া বাসায় যেতে বলে কৌশলে পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত মামুন পলাতক রয়েছে।

এরপর বৃষ্টি ও তার স্বামী গ্রামের বাড়ি ফিরে যান। বাড়ি গিয়েও বোনকে না পেয়ে আবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু বোন-ভগ্নীপতির কোন সন্ধান পাননি বৃষ্টি। পরে সোমবার বিকেলে আবার তারা আসপাড়া মোড় এলাকার ওই ভাড়া বাসায় যান এবং ঘরের ভেতরে ঢুকেন। এক পর্যায়ে তারা ঘরে থাকা ড্রেসিং টেবিলের নীচ থেকে মেঝেতে রক্তাক্ত পানি গড়াতে দেখতে পান এবং ঘরের ভেতর দুর্গন্ধ পান। পরে তারা সোমবার রাত ৮টার দিকে ড্রেসিং টেবিলটির ড্রয়ার খুলে চারটি পলিথিনে মোড়ানো মানবদেহের পাঁচটি টুকরা দেখতে পান। তবে সেখানে তার মাথা, হাত ও পা ছিল না। বিষয়টি শ্রীপুর থানা পুলিশে জানানো হয়।

এসআই রাজীব জানান, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীপুর থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষন দাস জানান, পলিথিনে থাকা মাংস খণ্ডে মানুষের চামড়া ও নারীর আলামত ছিল। তবে সেখানে মাথা, হাত ও পা ছিল না । মঙ্গলবার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরএ




Loading...
ads




Loading...