নির্যাতিত ধার্মিক মানুষের পক্ষে সোচ্চার হোন



ধর্ম মানুষের চলার পথকে সুন্দর ও মসৃণ করে। ধর্ম মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়। মানুষকে মানবিক হতে শেখায়। শিষ্টাচার শেখায়। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। অনেকেই মানব ধর্মকেই বড় করে দেখেন। স ষ্টার প্রতি আনুগত্য অনেক ধর্মের মূল কথা। যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর প্রতি আনুগত্য দেখাতে হবে।

তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে মানবজীবনের সিদ্ধি লাভ হয়। কোনো ধর্মই মানুষকে বিপথে পরিচালিত করে না। কিছু বিপথগামী হয়তো ধর্মকে তাদের নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। ফলে কোনো কোনো ধর্মের অনুসারীদের ওপর কালিমা পড়ে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় খ্রিস্টানদের গির্জায় দুষ্কৃতদের আক্রমণে ২৫৩ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তার কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে অস্ত্রধারীর গুলিতে ৫০ জন নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো ধর্মীয় উগ্রপন্থারই ফসল বলে অনেকেই মনে করেন।

মানুষকে তাঁদের সহজাত ধর্ম পালনে বাধা, অন্যের ধর্মকে ছোট করে দেখা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা ইত্যাদি কারণে তাঁদের মনে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ায়। কোনো কোনো দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এটি ঘটে থাকে। ধর্মের কারণে মানুষের বসতবাড়ি থেকে বিতাড়িত হতে হয়। ফিলিস্তিন মুসলমানরা, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, চীনের উইঘুর সম্প্রদায় ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার শিকার।

আজকের আমার লেখার মূল বিষয় চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলমান। চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতন চরমে পৌঁছেছে। সংবাদ মাধ্যেমের খবর মোতাবেক চীনের জনসংখ্যার ১-২ ভাগ মুসলিম।

তার মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখের মতো উইঘুর মুসলিম। এরা চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে বসবাস করেন। সাংস্কৃতিক ও জাতিগতভাবে এরা মধ্য এশীয় লোকজনের কাছাকাছি। তাদের ভাষা অনেকটা তুর্কি ভাষার মতো।
কিছুদিন ধরে তাঁদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চলছে। জাতিসংঘের

মানবাধিকার বিষয়ক একটি কমিটি ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে জানতে পারে যে চীন সরকার উইঘুরদের স্বায়ত্তশাসিত এলাকাকে মূলত একটি বন্দি শিবিরে পরিণত করেছে। সেখানে ১০ লাখের মতো মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, যেসব লোকজনের ২৬টি তথাকথিত ‘স্পর্শকাতর দেশের’ আত্মীয়স্বজন আছেন তাদেরকে এসব ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে।

এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান এবং তুরস্কসহ আরো কিছু দেশ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরো বলছে, এসব ক্যাম্পে যাদেরকে রাখা হয়েছে তাদেরকে চীনা ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর অনুগত থাকতে। আরো বলা হচ্ছে, তাদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে অথবা সেই ধর্ম পরিত্যাগ করতে। অথচ চীন বলছে তারা ‘জাতিগত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক তৎপরতা’ মোকাবিলা করছে। তারা যে একটি ধর্মের লোকেদের জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার ব্যবস্থা করছে তা কিন্তু কেউ জোরালোভাবে প্রতিবাদ করছে না।

এভাবে মানুষের ধর্মের ওপর আঘাত হেনে সহিংসতাকেই উসকে দেয়া হচ্ছে। চীনের সংবিধান বলে ভিন্ন কথা। চীনের সংবিধান অনুযায়ী সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সরকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। চীনের ৪০-৬০ ভাগ মানুষ কোনো ধর্মের অনুসারী নন। তাই বলে যারা ধর্মীয় অনুশাসন মানে তাঁদের কেন বাধা দেয়া?
এটি কোনো ক্রমেই গ হণযোগ্য নয়। মানুষের ধর্ম পালনে স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়ে চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন বন্ধে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি দেয়া উচিত। ধর্মীয় অনুশাসন একটি সুন্দর এবং বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আসুন মানুষের অধিকার আর ধর্মের প্রতি সহনশীল আচরণ করি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সাম্প্রদায়িকতামুক্ত পৃথিবী রেখে যাই। এটা যেন কোনো ধর্মকে কলুষিত না করে সেদিকে বিশ্বের কর্তা ব্যক্তিদের নজর দেয়া উচিত। ধর্ম পালনে বাধা দেয়া কোনো ক্রমেই উচিত নয়। লেখক: ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক।

মানবকণ্ঠ/এএম

 



Loading...


Loading...