ইন্টারভিউ বোর্ডে মানসিক চাপ

- প্রতীকী ছবি।


  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:২৫

বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে কিংবা প্রত্যাশিত চাকরিটি লুফে নিতে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক ইন্টারভিউয়ের বিকল্প নেই কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় ভালো করেও ইন্টারভিউ বোর্ডের মানসিক চাপ আর উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চাকরিটি আর পাওয়া হয়ে ওঠে না। ইন্টারভিউ বোর্ডে গিয়ে মানসিক চাপে ভেঙে পড়ার কারণে অনেকের মুখে চলে আসে জড়তা কিংবা সহজ প্রশ্নের উত্তরটিও যেন মাথা থেকে পালিয়ে যায় কিন্তু সাম্পতিক এক গবেষণা বলছে, এই মানসিক চাপকে কাজে লাগিয়েই আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডের মতো জায়গায় নিজের সেরা ফলটি বের করে আনতে পারবেন।

মানসিক চাপ আর উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে 
সাধারণ মানুষের কর্মদক্ষতার ওপর মানসিক চাপের প্রভাব নিয়ে কাজ করছেন এমন গবেষকদের মতে, মূলত তিন ধাপে মানসিক চাপকে যে কোনো পরিস্থিতিতে আপনার অনুক‚লে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মানসিক চাপকে স্বীকার করে নিতে হবে
যে কোনো পরিস্থিতিতে আপনার ওপর সৃষ্ট মানসিক চাপকে স্বীকার করে নিতে হবে। স্বীকার করে নেয়ার মাধ্যমেই মূলত চাপকে আপনার অনুক‚লে ব্যবহারের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। প্রথম উদাহরণের কথা চিন্তা করুন আবারো, আপনার বসের দেয়া কাজের আশি শতাংশ বাকি। সময় হাতে আছে একদিন। এই পরিস্থিতিতে আপনার মানসিক উত্তেজনাকে আপনার পক্ষে ব্যবহারের জন্য আপনাকে প্রথমে স্বীকার করে নিতে হবে যে, আপনি সময়ের চেয়ে পিছিয়ে আছেন।

প্রতিবন্ধকতাকে আপন করে নিতে হবে
ধরুন, আপনার লক্ষ্য যদি থাকে এভারেস্টের শিখরকে পদানত করা। আর তা করতে নেমে যত বাধা প্রতিবন্ধকতা আসবে তাকে আপন করে নিতে হবে। ভালোবাসতে হবে জীবনের প্রতি মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ নেয়ার মতো কঠিন কাজকে। তাই এভারেস্ট জয় করতে নেমে সামনে আসা প্রতিটি চ্যালঞ্জের সামনে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে আপনি কতটা ভালোবাসেন চ্যালেঞ্জ নেয়াকে। দৈনন্দিনের জীবনে প্রতিটি কাজের বাধা আসার সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা করে দেখতে হবে সেই কাজটিকে আপনি কতটুকু ভালোবাসেন। যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডো বাহিনী নেভি সিলের ট্রেনিং দেয়ার সময় তাদের ক্রমান্বয়ে এই ধরনের বিভিন্ন মানসিক চাপের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

মানসিক চাপকে কাজে লাগান
ধরুন, কোনো গহিন অরণ্যে ঢুকে পড়েছেন। সামনা-সামনি দেখা হয়ে গেল বাঘ মামার। জীবন বাঁচাতে দৌড়াতে হবে আপনাকে। সেই পরিস্থিতিতে দেয়া দৌড়টির কাছাকাছি গতিতেও যদি আপনি অলিম্পিক গেমসে দৌড়ে যান তাহলে সোনার পদকটি আপনার হাতেই দেখা দেবে। তাই বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুসারে, স্ট্রেস বা মানসিক চাপ আমাদের শিকারি পূর্বপুরুষদের প্রতিক‚ল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য দিয়েছে অনেক সুবিধা। যখন আমরা কোনো মানসিক চাপ কিংবা স্ট্রেসের মুখোমুখি হই তখন মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হয় এড্রেনালিন আর ডোপামিন।

প্রয়োজন অনেক বেশি অনুশীলন
আর পরবর্তীবার আপনি যদি কোনো ইন্টারভিউ বোর্ডে পরীক্ষকদের সম্মুখীন হওয়ার আগে ঠিক এইরকম স্ট্রেসড হয়ে যান তাহলে নিজের লক্ষ্যের দিকে মনোযোগ দিন। স্বীকার করে নিন আপনি চাপের মধ্যে আছেন। নিজের সাথে কথা বলুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন লক্ষ্যের ব্যাপারে। লক্ষ্য স্থির করুন। সেই লক্ষ্যের দিকে প্রাণপনে মনোযোগ দিন। নিজের সেই অভ্যাসটি খুঁজে বের করুন যেটি আপনার স্ট্রেস কিংবা মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...