আইইবি’র সদস্যপদ সিএসই ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে বড় অর্জন: আব্দুল বাসেদ


poisha bazar

  • অ্যাম্বাসেডর, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫০

সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল বাসেদ। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইটিই) বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান পদে কর্মরত ছিলেন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর সদস্যপদ লাভ করেছে। যার পেছনে ছিল তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা আর অক্লান্ত পরিশ্রম। আইইবি’র সদস্যপদসহ সিএসই বিভাগের নানান বিষয় নিয়ে দৈনিক মানবকণ্ঠের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক মানবকণ্ঠের অ্যাম্বাসেডর কাবিদ হাসান শিবলী। ছবি তুলেছেন দৈনিক মানবকণ্ঠের অ্যাম্বাসেডর ফারহানা বিনতে হাসান তাসমি।

কাবিদ হাসান: কেমন আছেন, স্যার?
মো. আব্দুল বাসেদ: জ্বি, ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন?

কাবিদ হাসান: জ্বি, আলহামদুলিল্লাহ স্যার। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ সম্প্রতি ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ’র (আইইবি) সদস্যপদ লাভ করেছে। বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে শুরু থেকেই সরাসরি জড়িত ছিলেন। আপনার অনুভূতিটা যদি ব্যক্ত করতেন।

মো. আব্দুল বাসেদ: আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আমরা আইইবির সদস্যপদ পেয়েছি। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সবচেয়ে বড় অর্জন বলবো আমি। ১৯৯৬ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগটি চালু হয়। আমি নিজেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের ছাত্র ছিলাম। ১৯৯৭ সালে আমি এখানে পড়াশুনা শুরু করি। আমরা যারা ২০০১ এর দিকে পড়াশুনা শেষ করে বের হই, তখন আমরা খুব করে চাইতাম যে আমাদের এই বিভাগটি আইইবি’র সদস্যপদ পেয়ে যাক। মৌখিক, লিখিত কিংবা এলামনাই এর মাধ্যমে অনেক ভাবেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের গুণগত মান নিশ্চিত ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য এই সদস্যপদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আমার কাছে মনে হয় এটা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সবচেয়ে বড় অর্জন।

কাবিদ হাসান: এই জার্নিটা কেমন ছিলো? কারণ আমরা দেখেছি যে একটা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার ছিল। একবার আইইবি থেকে পরিদর্শনে এসে তারা প্রথমবার কিছু শর্তারোপ করেছিল এই সদস্যপদ পাওয়ার জন্য। পরবর্তীতে আবারো পরিদর্শনের জন্য আসে। বেশ খানিকটা সময় লেগেছে। এই সময়টা কেমন ছিল?

মো. আব্দুল বাসেদ: বলতে দ্বিধা নেই আমাদের মতো মধ্যমমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই সদস্যপদ পাওয়াটা অনেক কমপ্লিকেটেড ছিলো। ২০১৪ সালে প্রথম আমরা আমাদের সেলফ এসেসমেন্ট রিপোর্টসহ এপ্লিকেশন করি। এই রিপোর্ট করাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল, বিশেষ করে অনেক তথ্য নিয়ে রিপোর্ট করতে হয়। এতে করে অনেক পুরাতন (১৯৯৫) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সময়কার তথ্য উদ্ধার করা অনেক বেশি কঠিন কাজ ছিলো। তো সে সময় জমা দেয়ার পরেও আমরা কোনো রেসপন্স পাইনি। এরপর ২০১৫, ২০১৬ তেও আমরা তাদেরকে এপ্রোচ করা কন্টিনিউ করি। আমি সেই এপ্লিকেশন ডাটা পুনরায় নতুনভাবে সাজিয়ে নতুন করে আবার জমা দেই। এটার কাজটা পিএইচডি’র রিপোর্ট করার চেয়ে কোন অংশে কম না। এরপর ২০১৭ সালে প্রথমবার আইইবি থেকে পরিদর্শনে আসে। আমরা একাডেমিক দিক থেকে যতটা শক্তিশালী আমাদের ফিজিক্যাল ইনফ্রেস্ট্যাকচারটা একটু পিছিয়ে। তারপরেও আমি বলবো, তারা যখন আসে আমাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে নথিপত্র যথেষ্ট ছিলো না। আমরা যদি তখন সেগুলো সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে পারতাম তাহলে আমার মনে হয় তখনই আমরা আইইবির সদস্য হয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু আমি কৃতজ্ঞ আইইবির টিমের কাছে। তারা মাত্র ৩ দিনেই আমাদের দুর্বলতা আর শক্তিমত্তা বের করে ফেলে। তো খুব অল্প কিছু সেক্টরে তারা সিগনিফিকেন্ট ইম্প্রুভমেন্ট দেখতে চায়। কিছু কিছু সেক্টরে আমাদের ইম্প্রুভমেন্ট দেখাতে বলা হয়। আমরা এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিই। অথোরিটি থেকে শিক্ষার্থী সবাই একটিভলি সাপোর্ট করে আমাদের। আমরা চোখে পড়ার মতো ইম্প্রুভমেন্ট দেখাতে শুরু করি। এরপর যখন তারা আসে, তাদের সঙ্গে আমাদের ইন্টারেকশনে আমরা বুঝতে পারি যে এবার হয়তো আমরা হয়তো আইইবি’র সদস্যপদ পেয়ে যাচ্ছি। আর সিগনিফেকন্টভাবে বলতে শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে সুসম্পর্ক সেটা এখানে টনিক হিসেবে কাজ করেছে। এটাই সবচেয়ে বড় স্ট্রেংথ। আর অনেক লিমিটেশন সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা সেরকম অভিযোগ করেনি। যেহেতু এখানে একটা ফিন্যান্সিয়াল ব্যাপার জড়িত। তারাও এ ব্যাপারগুলোতে অবহিত এবং সন্তুষ্ট।

কাবিদ হাসান: কোনো কিছু অর্জনের পর ধরে রাখাটা সবচেয়ে কষ্টের। আইইবি’র সদস্যপদ পাওয়ার পর এখন চ্যালেঞ্জটা কোথায়? অথোরিটি থেকে শিক্ষার্থী সবার জন্যই।

মো. আব্দুল বাসেদ: এটাই এখন কঠিন বাস্তবতা, সদস্যপদটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এটা এরপরে রিনিউ করা খুব সহজ হবে না। এক্সপায়ার হবার ৬ মাস আগে আমাদের আবার রিনিউ করার জন্য আবেদন করতে হবে। চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হলো আমাদের একটা ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে আমাদের দেশের এজুকেশন সিস্টেম থেকে। এখন নতুন আউটকাম বেসড এজুকেশন সিস্টেমের সঙ্গে সবাই মানিয়ে নিচ্ছে। আমাদেরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পার্শিয়ালি শুরু হয়েছে এই সিস্টেম। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো এই সিস্টেমের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া। আমাদের টিচিং, প্রশ্ন তৈরি, এসেসমেন্ট, লার্নিং এসব আউটকাম বেজড এজুকেশনের সিস্টেম ফলো করে করতে হবে। আরো কিছু ম্যাটেরিয়াল লাগবে, অথোরিটির সহায়তা লাগবে, সবকিছু মিলে ব্যাপারটা কঠিন হলেও আইইবি’র সদস্যপদ ধরে রাখা পসিবল। তবে এটা ডেফিনেটলি রিনিউ করাটা এতোটা সহজ হবে না। আমাদের এলামনাই অনেক শক্তিশালী। যদি আমাদের এলামনাই আমাদের সাহায্য করে তাহলেও আমাদের জন্য আরো অনেক সহজ হবে। সুতরাং সবার অবদানই লাগবে আমাদের সারভাইভ করতে গেলে।

কাবিদ হাসান: সরাসরি প্রশ্ন একটা। শিক্ষার্থীরা এই সদস্যপদ থেকে কিভাবে উপকৃত হবে?

মো. আব্দুল বাসেদ: আমি হয়তো একদম সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারছি না ব্যাপারটা, কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ আইইবি’র মেম্বারশিপ আছে কিনা সেটা জিজ্ঞেস করে সরাসরি এটার কাজ কি বা কি এটা জানুক বা না জানুক। ধরেই নেয় যে আইইবি’র সদস্যপদ আছে মানে অনেক ভালো। নাই মানে এখানে অনেক কিছুই নাই। তবে এটা মানতেই হবে যে আইইবি’র সদস্যপদ পাওয়া একটা বিভাগ থেকে আমি পড়াশুনা করেছি মানে এটা একটা সার্টেন লেভেল পর্যন্ত কোয়ালিটি এনশিওর করে। এটা শিক্ষার্থীদের অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস দিবে। সে জানবে যে সে একটা ভালো কোর্স থেকে ভালো কিছু শিখেই পাশ করছে। আর তাছাড়া আমাদের দেশের একটা ব্যাপার তো আছেই, নামের আগে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কথা বসাতে পারলে তো ভালোই লাগে। সেদিক থেকে সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ার হলো আরকি।

কাবিদ হাসান: এটা কি নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর জন্য নাকি সবার জন্য, যারা পাশ করে বের হয়ে গেছে সবাই এর সুবিধা পাবে?

মো.আব্দুল বাসেদ: এটা কার্যকর হয় ৭ জুলাই ২০১৯ থেকে। সুতরাং রিসেন্ট যে ব্যাচ গুলো আছে তারাই এটার সুবিধাটা পায়। কিন্তু, আগেও যারা পাশ করেছে তারা এপ্লাই করলে তাদেরও আইইবি সদস্যপদ দিয়ে দেয়। এটা এক্সপায়ার হয়ে গেলে তার পর থেকে যারা থাকবে তারা আর এই সুবিধা পাবে না। আমরা ‘রুল অফ থাম্বস’ যে অলিখিত নিয়ম বলে থাকি যখন থেকে সদস্য কার্জকর হলো, তার আগের সবাই এই সুবিধা পাবে।

কাবিদ হাসান: এই আউটকাম বেজড এজুকেশন ফলো করতে কি অথোরিটি কি কঠোর হবে? শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি কি স্ট্রিক্ট নির্দেশনা আসবে কোয়ালিটি এনশিওর করার জন্য?

মো. আব্দুল বাসেদ: এটা ভালো পয়েন্ট, এটা স্ট্রিক্ট হওয়াটা আসল না, এখানে মোটিভেশনটা হলো আসল। আমার বিশ্বাস শিক্ষার্থীদের যদি এটার উপকারিতা বোঝাতে পারি, শুধু আইইবি’র জন্য না, নিজেদের ইম্প্রুভমেন্টের জন্য, একটা কোয়ালিটিসহ ডিগ্রি এচিভ করা খুবিই ভ্যালুয়েবল একটা শিক্ষার্থীর জন্য। আশা করবো স্টুডেন্টরা আমাদের কো-অপারেট করবে। হয়তো শুরুতে একটু মানিয়ে নিতে অসুবিধা হবে। কিন্তু সব মিলিয়ে আমি আশাবাদী।

কাবিদ হাসান: আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার কাজগুলো সবচেয়ে বেশি মূল্যায়িত হয়। গবেষণামূলক কাজ, জার্নালে, কনফারেন্সে গবেষণাপত্র প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল প্রকাশ এই ক্ষেত্রগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মো. আব্দুল বাসেদ: বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে গবেষণায় আমরা অনেকটাই পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষার্থী সবাইকেই সামগ্রিকভাবে রিসার্চে এগিয়ে আসতেই হবে। রিসার্চের বিকল্প নাই। কিন্তু সর্বশেষ কিছু বছর ধরে আমরা রিসার্চে অনেক বেশি একটিভ। আমাদের নিয়মিত জার্নাল প্রকাশিত হয়। আমাদের মধ্যম লেভেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অর্থায়নটা অনেক বেশিই সমস্যা ছিল। কিন্তু এখন আমরা নিয়মিত অথোরিটির সাহায্য পাচ্ছি। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এই ফান্ডিং সিস্টেমটা আমাদের এখানে আগে ছিলো না। কিন্তু এখন যদি ভালো গবেষণা প্রপোজাল দেয়া হয় তাহলে ফান্ডিং পাওয়া যাবে। এটা ব্যক্তিগত, দলীয়, শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী যেই হোক, বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ড দিতে প্রস্তুত। এখন আমাদের মানসিকতার একটা পরিবর্তন আনাটা খুব জরুরি। আমাদের আসলেই গবেষণা থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়ে আছি, সেটাকে পূরণ করার এখনি সেরা সময়। আমরা গবেষণামূলক কাজও করতে পারবো, অথোরিটি থেকে অর্থায়নও পাবো। আমরা গবেষণা আর এই সম্পর্কিত ক্ষেত্রে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অর্জন গত কয়েক বছরে বেশ চোখে পড়ার মতো। প্রজেক্ট, পোস্টার কম্পিটিশন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব জায়গায় আমাদের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স-আপ হয়ে এসেছে। এটা প্রমাণ করে যে, আমরা সঠিক পথেই আছি আমাদের কাজ নিয়ে। বিশেষ করে একটা প্রজেক্টের নাম আমি বলবো, আমাদের শিক্ষার্থীদের একটা আইডিয়া একজন শিক্ষক সম্রাট কুমার দে’র তত্ত্বাবধায়নে ‘পার্কইজি’ বিভিন্ন স্থানে চমৎকার কাজ করে পুরস্কার জিতে এসেছে। এই প্রজেক্টের জন্য আইসিটি ডিভিশন থেকে একটা অনুদানও পেয়েছি। আশা করবো এটা কে নিয়ে আরো এগিয়ে যেতে পারবে। আর আমরা এই অনুদানটা আমাদের গবেষণায় যথেষ্ট কাজ করছি বলেই পেয়েছি বলে আমি মনে করি। এক কথায় বললে, আমরা গতকয়েক বছর আমরা রিসার্চে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছি, তবে এটা কেবল শুরু, এটাকে আরো বড় পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

কাবিদ হাসান: বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী গবেষণামূলক সম্পর্কে এর উপকারিতা নিয়েও খুব বেশি অবগত নয়, তারা এটা নিয়ে সচেতনও না। তাদেরকে এ বিষয়ে অবগত করার জন্য কর্তৃপক্ষ বা ক্লাবগুলো কি কোনো ধরণের কাজ করবে বা কোনো রকম পরিকল্পনা আছে কি?

মো. আব্দুল বাসেদ: আমাদের একটিভ বেশ কিছু ক্লাব আছে। খুব শীঘ্রই ইন্সটিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স(আইইই) এর স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ অফিসিয়ালি কার্যক্রম শুরু করবে। এদের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের অবগত ও সচেতন করবো। আর আমাদের কারিকুলামে একটা কোর্স সংযুক্ত করেছি। যেটা হলো রিসার্চ মেথডলজি অ্যান্ড সাইন্টিফিক কমিউনিকেশন। এখানে শিক্ষার্থীরা শিখতে পারবে কিভাবে গবেষণা করতে হয়, পেপার লিখতে হয়, থিসিস করতে হয়। এ সম্পর্কিত একটা ওয়ার্কশপ খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে। সুতরাং আমরা সবাইকেই চাচ্ছি গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে।

কাবিদ হাসান: বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো বেশি বেশি কনফারেন্স হবার দরকার কিনা? ইন্সটিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স(আইইই) বা আন্তর্জাতিক প্রকাশনা কোম্পানি স্পিনজার এর ব্যানারে কি কনফারেন্স করা হবে?

মো. আব্দুল বাসেদ: আমরা শুরু করেছি। সম্প্রতি আমরা সিস্কোর সঙ্গে পার্টনার হয়েছি। নেটওয়ার্কিং এ আগ্রহীরা এখান থেকে সুবিধা পাবে। অন্যান্য কোর্সের ক্ষেত্রেও আমরা একই কাজ করতে চাচ্ছি। যাতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ইন্ডাস্ট্রির ফ্লেভার পেয়ে যায়। আর আমরা ইতোমধ্যে দুটো আন্তর্জাতিক কনফারন্সের আয়োজন করেছি। যার মধ্যে একটি কম্পিউটার সম্পর্কিত সাইবার সিকিউরিটির উপর। তৃতীয়টি এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আইইই এর স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ চালু করলে হয়তো আইইই এর ব্যানারে ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি থেকে একটা কনফারেন্স করবো আন্তর্জাতিক মানের। আমরা বছরে অন্তত একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স করার আশা করি।

কাবিদ হাসান: স্যার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যদি কিছু বলতেন।

মো. আব্দুল বাসেদ: আমি এখানে আছি ১৯৯৭ সাল থেকে। এখানে যদি শিক্ষার্থীসুলভ পরিবেশ না থাকত তাহলে হয়তো আমি থাকতাম না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুসম্পর্কই আমাদের মূল শক্তি। শিক্ষার্থীদের ছাড়া আমাদের কোনো অস্তিত্বই নেই। আশা করি তাদের থেকে আগামীতেও সবসময় ভালো রেসপন্স পাবো।

কাবিদ হাসান: আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার।

মো. আব্দুল বাসেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

মানবকণ্ঠ/এএম




Loading...
ads




Loading...