ছড়া

ছড়া কবিতা


poisha bazar

  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:০৮

আমার আছে
আখতারুল ইসলাম

আমার আছে সাগর নদী হাওর বাঁওড় বিল,
মাটির সোঁদা গন্ধমাখা ডাহুক পাখির ঝিল।
আমার আছে বাঘ-ভালুকও প্রিয় সোঁদরবন,
গাঁয়ের বুকে কাজল দিঘি সুখের অনুক্ষণ।

আমার আছে পদ্মা মেঘনা নীল যমুনার ঘাট,
হাঁস বলাকা পৌষ পার্বণ দূর্বা ঘাসের মাঠ।
আমার আছে দূর দিগন্ত আকাশ সমুদ্দুর,
মেঠো পথের বাঁকে বাঁকে রাখাল বাঁশির সুর।

আমার আছে শাপলা দোয়েল চাঁদ সূর্যের আলো,
শিশির ভেজা পাতার হাসি মন হয়ে যায় ভালো।
আমার আছে নিঝুম দ্বীপ আর সমুদ্র সৈকত,
শ্যামল ছায়ার স্বপ্ন আছে ঘাস মোড়ানো পথ।

আমার আছে পাহাড় টিলা নীলগিরির ঐ মেঘ,
ফুল ফসলের বন বনানী নেই কোন উদ্বেগ।
আমার আছে মুক্তিযুদ্ধ বীরের ইতিহাস,
ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতিতে বাস।

আমার আছে বর্ণমালা মধুর মায়ের ভাষা,
দু’চোখ জুড়ে স্বপ্নরাশি মায়ের ভালোবাসা।
আমার আছে স্বপ্ন হাজার দেশ মাতাকে ঘিরে,
নতুন দিনের হাতছানি দেয় স্বপ্ননদীর তীরে।


নাটাইবিহীন মন
আল জাবিরী

একটা আকাশ উদাস আকাশ
নাটাইবিহীন মন
ইচ্ছে জাগে সেই আকাশে
ঘুরি সারাক্ষণ।

মস্ত বড় আকাশ খানা
কে করেছে নীল
নীলে নীলে নীলাভ এখন
ছোট্ট আমার দিল।

ঐ আকাশের নীলে নাকি
নীল পরীদের বাস
আয় ছুটে সব খোকা খুকু
দেখতে যদি চাস।

আকাশ নীলে ফোটে হাজার
নানান মেঘের ফুল
ফুলগুলো তো ফুল শুধু নয়
খুকুর কানের দুল।

মেঘ ফুলেরা দুল হয়ে যায়
খুকুর কানে এসে
তখন খুকু উড়তে থাকে
হাওয়ায় ভেসে ভেসে।


আঁকতে পারো
আকরাম সাবিত

আঁকার আছে অনেক কিছুই
আঁকতে যদি পারো,
বলছি শুনো আরও
আঁকতে পারো বিশাল পাহাড়
কিংবা বাঁশের ঝাড়ও।

চাইলে তুমি আঁকতে পারো
সবুজ শ্যামল মাঠে-
রাখাল ছেলে হাঁটে!
আলতো রোদে বিকেল বেলা
নৌকা বাঁধা ঘাটে।

চুপটি করে আঁকতে পারো
লতা-পাতার ঘাসে-
ভোরের শিশির হাসে!
কেমন করে মিষ্টি স্বরে
বৃষ্টি নেমে আসে।

অনেক ভালো লাগবে তুমি
আঁকতে পারো যদি-
গাঁয়ের পাশে নদী!
সেই নদীতে বয়ে চলা
নৌকা নিরবধি।

হঠাৎ করে আঁকতে পারো
গাছের ডালে পাখি,
করছে ডাকাডাকি
শ্রদ্ধা ভরে আঁকতে পারো
মায়ের দুটি আঁখি।

আঁকতে পারো সকাল বেলার
রক্ত মাখা রবি,
পথের পথিক, সবই,
এমন করেই আঁকতে পারো
বাংলাদেশের ছবি।


আমার গাঁয়ে
ফাহমিদা ইয়াসমিন

কচুরিফুল ঢেউয়ে ঢেউয়ে
সাঁতার কেটে যায়
পল্লী বধূ চড়ে নায়ে
দেখবি যদি আয়।

আকাশ থেকে মেঘের মালা
গায়ে সাদা শাড়ি
গাঢ় ঘন নীলচে টিপে
রূপসী এক নারী।

শিশিরকণা আলতা পরায়
নয়নতারার পায়ে
জোনাকপোকার আলোর নাচন
দেখতে পাবে গাঁয়ে।


সময়ের টান
দিপংকর দাশ

তিন পায়ে হাঁটে
গোল এক মাঠে
টিকটিক বাজে ঘড়ি
তারা ঝিকিমিকি
শুনে টিকটিকি
ডেকে যায় প্রাণ ভরি।

ফুল ফোটে বাগে
দেখেনি সে আগে
প্রজাপতি যায় উড়ে
মধু খেতে অলি
আসে রোজ চলি
গায় গান নিজ সুরে।

ভোর বেলা কাক
পাখিদের ডাক
হƒদে জাগে ভালোবাসা
দখিনের বায়
মন চলে যায়
পুরাবে কি সব আশা?

সময়ের টানে
কবিতা কি গানে
নেমে আসে এক ঝড়
শেষ বেলা প্রাতে
শুধু খালি হাতে
সব হয়ে যায় পর।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...