ছোটগল্প

পাখিদের ইশকুল বাস : আশিক মুস্তাফার গল্প

আশিক মুস্তাফা

- ছবি এঁকেছেন নিসা মাহ্জাবীন


  • ০২ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৫১

বনের ঠিক মাঝখানে পাখিপুর ইশকুল। পাখিরাজ্যে এই একটাই ইশকুল। ছোট পাখিরা তেমন উড়তে পারে না বলে তারা ইশকুলবাসে চড়ে ইশকুলে যায়। আমাদের বাসের মতো মাটিতে চলে না পাখিদের ইশকুল বাস।

পাখিরা যেমন ওড়ে, তাদের বাসও তেমনি উড়ে উড়ে ছোট পাখিদের ইশকুলে নিয়ে যায়। পাখিরাজ্যে বাসও এই একটাই। আর কোনো বাস নেই। বড় পাখিরা তো পৃথিবীর এ মাথা থেকে ও মাথায় উড়ে চলে যেতে পারে, চাইলেই।

তাই তাদের বাস-বিমান লাগে না। কিন্তু একটা বাস লাগে। ছোট পাখিদের। যেই বাসটা একেবারে ছোটদের ইশকুলে নিয়ে যায়।
পাখিদের এই ইশকুল বাসের ড্রাইভার এবং হেলপার কিন্তু মানুষ। বনের পাশেই গ্রাম। এখলাসপুর। সেই গ্রামে মানুষ থাকে। থাকে ছোট্টমোট্ট মানুষরাও। তারা বড়দের সঙ্গে বনে ঘুরতে আসে। যারা বনে ঘুরতে আসে, তাদের ভেতর থেকে দুজনকে বেছে নেয় বড় পাখিরা। এক মাসের জন্য নিয়োগ দেয় পাখিদের ইশকুল বাসে। মাস শেষে তাদের গ্রামে ফেরত দিয়ে নতুন করে দুজনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এভাবেই চলে আসছে পাখিদের ইশকুল বাসের রীতি।

যারা ড্রাইভার-হেলপার হয় তাদের ওড়াউড়ি শিখিয়ে দেয় বড় পাখিরা। আর একবার এই ওড়াউড়ি শিখতে পারলেই হয়। ভোলে না কেউ। সাঁতার কাটার মতো। এখলাসপুর গ্রামে থাকা ছোটরা প্রায়ই বনে এসে ঘোরে বাসের ড্রাইভার-হেলপার হতে। কিন্তু ছোটদের তো ড্রাইভার-হেলপার বানানোর নিয়ম নেই।

একদিন পাখিদের ইশকুল বাস ভুল করে এখলাসপুর এসে থামল। ছোটরা বাস দেখে অবাক। তারা ছোট পাখিদের সঙ্গে খাতির করল। তাদের বন্ধু বানিয়ে নিলো। আর বলে গেলো, তোমরা উড়তে চাইলে রঙিন জামা পরে বনে এসো। তবেই বড় পাখিদের চোখে পড়বে। রঙিন জামা বড্ড পছন্দ বড় পাখিদের। যাকে পছন্দ হবে তাকে এমনিতেই একমাসের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।

এরপর থেকে ছোটরা রঙিন জামা পরে বনে ঘোরে। তোমার বাড়ি যদি এখলাসপুর হয় কিংবা পাখিপুর বনের আশপাশে হয় কিংবা কখনো যদি পাখিপুরের বনে ঘুরতে যাও তবে তুমিও রঙিন জামা পরে যেও। তাতে মনে ধরে যেতে পারে বড় পাখিদের। আর একবার মনে ধরলেই হয়। ওড়াউড়িটা হাতেকলমে শিখে নিতে পারবে। একমাস পাখিদের ইশকুল বাসে কাটিয়ে দেশে ফিরে বাকিটা জীবন উড়েই কাটিয়ে দিতে পারবে!

মানবকণ্ঠ/এইচকে 




Loading...
ads




Loading...