কানাডায় মা-বাবা, বোন ও নানীকে যে কারণে খুন করে মিনহাজ

অভিযুক্ত মিনহাজ ও নিহতরা। ছবি-এনআরবি নিউজ।


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ৩০ জুলাই ২০১৯, ২০:২৩

কানাডার টরন্টোর মারখাম এলাকায় একই পরিবারের চার বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে অভিযোগের তর্জনী উঠেছে মিনহাজ জামানের (২৩) দিকে। হত্যাকাণ্ডের ছবি পোষ্ট করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ যুবক লিখেছেন- প্রথমে আম্মু, তারপর নানী, তারপর বোন ও সবশেষে আব্বুকে হত্যা করি। সবশেষে তিনি লেখেন, পুলিশ এসে গেছে, গুডবাই।

মিনহাজের পোস্ট ও প্রতিবেশিদের সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপ আউট হওয়ার পর তিনি হতাশ হয়ে পড়েন এবং নাস্তিকতা গ্রাস করে তাকে। ঐ সময় থেকে তিনি এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করতে থাকেন।

প্রতিবেশিদের উদ্ধৃতি দিয়ে টরন্টোর গণমাধ্যম জানিয়েছে, মিনহাজ গত এক বছর ধরে এ ধরনের পোষ্ট দিয়ে আসছিলেন তাই তার এ পোষ্টটি প্রথমে কেউ বিশ্বাস করেনি। পোষ্টে তিনি তার হতাশার কথাও লিখেন। মিনহাজ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে ড্রপআউট। সে স্বল্পভাষী এবং সবসময় শান্তশিষ্ট থাকতে ভালবাসতো। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়েন। নিভৃতচারির মতো নিকটস্থ মল এবং ব্যায়ামাগারে সময় কাটাতেন।

নিহতরা হলেন- মিনহাজের বাবা মোহাম্মদ মনির, ছোটবোন ম্যালিসা (২১) এবং তার নানী। নিহতরা টাঙ্গাইল জেলার অধিবাসী। নিহতরা সকলেই টাঙ্গাইল থেকে কয়েক দশক আগে কানাডায় এসেছিলেন। মিনহাজ হচ্ছেন মনির দম্পতির একমাত্র পুত্র সন্তান।

নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং সোমবার গ্রেফতারকৃত মিনহাজ জামানকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। খবর- এনআরবি নিউজের।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত চলছে এবং লাশের ময়নাতদন্তের পরই বিস্তারিত জানানো হবে বলে উল্লেখ করেছেন পুলিশের মুখপাত্র এ্যান্ডি প্যাটেনডেন। ইয়র্ক রিজিওনাল পুলিশের অপর কর্মকর্তা লোরা নিকোল সোমবার রাতে জানান, এই হত্যাকান্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে বলে অনুমিত হচ্ছে না। গ্রেফতারকৃত মিনহাজই এমন নৃশংসতা চালিয়ে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন। তাই এলাকাবাসীর ভীত হবার কোনো কারণ নেই।

গত ২৯ জুলাই সোমবার তাকে টরন্টোর নিউমার্কেট আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির করা হয় গ্রেফতার মিনহাজকে। পরে তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়ে যায় পুলিশ। আগামী ২ আগষ্ট শুক্রবার মিনহাজকে আবার আদালতে হাজির করা হবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

ইয়র্ক পুলিশের মুখপাত্র এ্যান্ডি প্যাটেনডেন জানান, রোববার বেলা ৩টায় তাদের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয় মারখামের ক্যাসেলমোর এভিনিউর ঐ বাড়িতে কিছু মানুষ আহত হয়ে পড়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চারটি লাশ দেখতে পায়। এদের কেউ তখন আর বেঁচে নেই। তবে কে, কোন জায়গা থেকে ৯১১-এ কল দিয়েছিল তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সান্তা ক্লারা সিটিতে হাসিব-বিন গোলাম রাব্বি (২২) নামক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক তরুণ গুলি করে তার বাবা গোলাম রাব্বি (৫৯) এবং মা শামিমা রাব্বি (৫৭) কে হত্যা করেন। রাব্বি দোষী সাব্যস্ত হবার পর জেল-জরিমানার অপেক্ষায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কারাগারে। রাব্বি দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বগুড়া জেলা থেকে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...