কানাডায় ড্রাইভিং টেস্ট বিড়ম্বনা

এম এল গনি

লেখক- এম এল গনি।


  • ২৭ জুলাই ২০১৯, ১৮:৫৯

বাংলাদেশে গাড়ি চালাতেন এমন অনেকেও একবারে কানাডার ড্রাইভিং টেস্ট পাশ করতে পারেন না। দেশে থাকতে আমিও মাঝেমাঝে ড্রাইভারকে পাশে বসিয়ে অফিসের গাড়ি চালাতাম। তারপরও কানাডার ড্রাইভিং টেস্ট পাশ করতে আমাকে তিনবার পরীক্ষা (Road test) দিতে হয়েছে।

বাংলাদেশের এক ভদ্রলোক (ধরুন, তাঁর নাম কাজী সাহেব) দেশে থাকতে ভালোই গাড়ি চালাতেন। কিন্তু কানাডার ড্রাইভিং টেস্টে পরপর নয়বার অকৃতকার্য হয়ে রীতিমতো নার্ভাস হয়ে পড়লেন। উপর্যুপরি ফেলের কারণে তাঁর মাথা আর স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিলো না। এক সময় অন্য চিন্তা এলো কাজী সাহেবের মাথায়।

ঘটনাটি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের। দশমবার রোড টেস্ট দিতে গাড়িতে চড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি আঁচ করতে পারলেন এবারও পাশ হচ্ছে না। কারণ, স্কুলের সামনের রাস্তায় যে গতিতে গাড়ি চলার কথা ছিল তিনি তা যথাযথভাবে বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাছাড়া বাঁয়ে মোড় ঘোরানোর সময় তিনি সিগন্যাল দিতে খানিক দেরি করে ফেলেছেন। পাশের সীটে বসে থাকা পরীক্ষক ওসব ভুলত্রুটি নোট করেছেন সাথে সাথে।

কিংকর্তব্যবিমুঢ় অবস্থায় কাজী সাহেব নিজের শার্টের পকেট থেকে ১০০ ডলারের একটা নোট বের করে পরীক্ষক আর তাঁর মাঝখানের ফাঁকের জায়গায় আলতোভাবে রাখলেন। তাঁর ধারণা ছিল পরীক্ষক টাকাটা লুফে নেবেন। কয়েক মিনিট অপেক্ষার পরও এ টাকার ব্যাপারে পরীক্ষকের কোনো আগ্রহ না দেখে কাজী সাহেব আরো অস্থির হয়ে পড়লেন। আরো মিনিট কয়েক পর তিনি টাকাটা পরীক্ষকের কোলের উপর ছুঁড়ে দিয়ে তাঁর দিকে আড়চোখে তাকালেন।

এবার পরীক্ষক কাজী সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বললেন- What is this?

সাহস করে কাজী সাহেব বললেন- Sir, that's for your.

পরীক্ষকের বুঝতে বাকি রইলো না যে কাজী সাহেব তাঁকে ঘুষ দেবার চেষ্টায় আছেন। তাও তিনি হৈচৈ না করে কাজী সাহেবকে অনুরোধ করলেন গাড়িটা নিয়ে তাঁর (পরীক্ষকের) অফিসে ফিরে যেতে। পাশ করবেন কি করবেন না তা নিয়ে দ্বিধায় ভুগতে ভুগতে কাজী সাহেব নির্দেশমতো গাড়ি নিয়ে পরীক্ষকের অফিসে ফিরে গেলেন।

১০০ ডলারের নোটটা কাজী সাহেবের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে পরীক্ষক তাঁকে তাঁর অফিসে ডেকে নিলেন। তাঁকে অফিসে বসিয়ে রেখে অন্য এক কক্ষ থেকে আরেক অফিসারকে ডেকে আনলেন পরীক্ষক। কাজী সাহেবের মনে হলো, এই দ্বিতীয় অফিসার পরীক্ষকের supervisor হবেন হয়তোবা।

সুপারভাইজার সাহেব কাজী সাহেবকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন যে, তিনি যা করেছেন তা কানাডায় দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরও কাজী সাহেব নতুন অভিবাসী বলে তাঁরা ঘটনাটা নমনীয়ভাবে দেখছেন। তাই তাঁরা কাজী সাহেবের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশ রিপোর্ট করেননি এবারের মতো। তবে ন্যূনতম সাজা হিসেবে কাজী সাহেবকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে ৫ বছরের জন্য ড্রাইভিং টেস্ট দেয়ার অযোগ্য ঘোষণা করলেন সুপারভাইজার সাহেব। জেলজরিমানা হয়নি দেখে মনের খুশিতে কাজী সাহেব কৃতকর্মের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করে যত দ্রুত সম্ভব ওই অফিস থেকে কেটে পড়লেন।

সেই কাজী সাহেবের এক কাছের বন্ধুর সাথে আমার কথা হলো সেদিন। কাজী সাহেব নাকি ড্রাইভিং টেস্টের ওই ঘটনার কিছুদিনের মাঝেই সপরিবারে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ছেড়ে পাশের প্রদেশ আলবার্টায় পাড়ি জমিয়েছেন।


লেখক- এম এল গনি : কানাডা প্রবাসী লেখক, ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট ও প্রকৌশলী।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...