হঠাৎ সরগরম ব্লু ম্যাঙ্গো রেস্টুরেন্ট



  • মহিউদ্দিন পলাশ
  • ১৮ জুন ২০১৯, ০২:১৩

হোটেল ব্লু ম্যাঙ্গো। ছোট্ট টনটন শহরের অতি পরিচিত এক রেস্টুরেন্ট। মালিক বাংলাদেশের আফতাব আলী। হোটেলে কর্মরতদের একজন ছাড়া বাকি সবাই বাংলাদেশের। টনটনের সিটি সেন্টার থেকে সামান্য একটু বাইরে। ৫ মিনিটের হাঁটা দূরত্ব। অনেকটাই নিরিবিলি। কাস্টমার সবাই বিশ। মাঝে মাঝে এসে থাকেন বাংলাদেশিরা। সাধারণত স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার পর হোটেল বন্ধ হয়ে যায়। সেই নিরিবিলি পরিবেশ সাপ্তাহিক বন্ধের দিন আরো বেশি করে নিরিবিলি মনে হয়। কিন্তু রবিবার সেই সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশের সেই হোটেল হঠাৎ করে সরগরম হয়ে উঠে। তাও রাত হোটেল বন্ধ হওয়ার সময় সূচির পরমুুহর্তেই রেস্টুরেন্টের ভেতরে লোকারন্য হয়ে উঠে। একটি একটি করে গাড়ী এসে থামছে, আর সেখান থেকে তিন জন, চার জন করে লোকজন নেমে এসে সোজা ডুকে পড়ছেন হোটেলের ভেতর। কয়েকজনকে নিয়ে সবার আগে আসেন যুক্তারজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। আগতদের মাঝে ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল আলম সিদ্দিকিও। তিনিও গাড়ি থেকে নামেন তিনজনকে নিয়ে। আগতদের অনেকেই একে অন্যোর পরিচিত। আর যারা পরিচিত নন, তারা পরস্পরের সাথে পরিচিত হয়ে নিচ্ছেন। এদের কেউ এসেছেন লন্ডন থেকে। কেউবা ব্রিস্টল থেকে। আসার তালিকায় আছেন বার্মিংহাম,কার্ডিফের লোকও। যেখানে কিছুক্ষন আগেও ছিল নিরিবিলি। হেটেলের সামনে ছিল না কোন গাড়ি পার্ক করা। সেখানে গাড়িতে সয়লাব হয়ে যায়। লম্বা পার্কিং। এদের সবাই কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশি। রেস্টুরেন্টে নেই কোন জন্মদিন বিয়ে বা অন্য কোন অনুষ্ঠান। ইংল্যান্ডের মতো দেশে কোন জায়গায় কোন অনুষ্ঠান ছাড়া এতো লোকের সমাগত চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু এভাবে সবাই সমবেত হওয়ার পেছনে নিশ্চিয় কোন না কোন কারণ আছে। তবে এটা জেনে নিতে মোটেই সময় লাগেনি। সবাই এসেছন বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে।দ ব্রিস্টলে শ্রীলঙ্কার কাছে পয়েন্ট হারানে আর ম্যাচ না হওয়ার ু:খ ভুলেলকে উৎসাহ দিতে। জয়ের উৎসবে রঙিণ হতে।

এক সময়ের অপরিচিত টনটন এখন সবার কাছে পরিচিত। অজানা টনটনকে জানা আর বাংলাদেশের খেলা দেখার বাসনা-এই দুই মিলে টনটন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল প্রবাসীরে মাঝে। তাদেরই এক ছাতার নিচে নিয়ে আসেন মাশরাফিরা। বলা যায় টনটনে উইন্ডিজের ম্যাচ দেখার উৎসব শুরু হয়েছিল আগের দিন রাতে এই ব্লু ম্যাঙ্গো হোটেল থেকেই। ঘটা করে সবাইকে খাওয়াত দিয়ে নিয়ে আাস হয়নি। ব্লু ম্যাঙ্গো হোটেলের মালিক সিলেটের বিশ্বনাথের আফতাব মিয়া ও তার খালাত ভাই ওলিউর রহমান মিলে এই আয়োজন করেন। তারে পরিচিত ছিলেন অনেকেই। অনেকেই আবার আসেননি। কিন্তু আফতাব মিয়া, ওলিউর রহমানের পরিচিত অনেকেই ফোন করে জানিয়েছেন যে তাদের পরিচিতরা খেলা দেখতে আসবেন। টনটনের ছোট্ট শহরে কে কখন আসবেন, কেউ জানেন না। রাত গভীর করে আসলে খাবারের সমস্যা হবে। তাই আতীথিয়েতা য়োর ব্যবস্থা করেন। তিন চার প্রকারের তরকরি দিয়ে প্রায় ৫০/৬০ জনের খাবারের ব্যবস্থা করেন।
খাবারের তালিকায় ছিল রোস্ট, হাস ও মহিষের মাংস আর ডাল। আয়োজন দেখে মনে হবে বিয়ের বাড়ির খাবার। কিন্তু এক পর্যায়ে আগতদের সংখ্যা একশর কাছাকাছি হয়ে যায়। শেষ হয়ে যায় খাবার। কিন্তু তা আর বুঝতে দেননি ওলিউর রহমান ও আফতাব মিয়া তা হতে দেননি। সব কিছুই হোটেলে ছিল। সাথে সাথেই আবার চুলা গরম করে নেন। শেষের দিকে যাার এসেছিলেন তারাও ভুরিভোজ করেন। খাবার-দাবার আর আড্ডার মাঝে ছিল বাংলাদেশ ল নিয়ে আলোচনা। বৃষ্টি হবে কি? বাংলাশে জিতবে কি? জিতলে বাংলাদেশ কতোটুকু এগুবে। হারলে কি অবস্থা হবে। আগুন্তকদের অনেকেই ছিলেন যুক্তারাজ্য আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনেরনেতা কর্মী। কিন্তু এ দিন তারা এ সব পরিচয় আড়ালে রেখে শুধুই একজন প্রবাসী বাংলাদেশি হিসাবে বাংলাদেশ লকে সমর্থন করতে এসেছেন। আলোচনায় রাজনীতি স্থানই পায়নি। আনোয়ারজ্জামানের ছোট্ট বক্তব্যে উঠে এসেছিল সে রকমই কথা। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজ আমরা এখনে এসেছি শুধুই বাংলাশে লকে সমর্থন দিতে। সব কিছুর উর্দ্বে আমরা বাংলািেশ। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ জিতবে।’ তিনি ব্লু ম্যাঙ্গো রেস্টুরেন্টের এ রকম আয়োজনকে প্রবাসীদের জন্য মিলনমেলা বলেও অভিহিত করেন। ক্রিকেট খেলার জন্যই এ রকম সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। আয়োজক আফতাব মিয়া বলেন, ‘ এভাবে আগে কখনো এতো প্রবাসী বাংলাদেশি এক সাথে হননি। যখন জানতে পারলাম পরিচিত, অপরিচিত।

মানবকণ্ঠ/টিএইচ



Loading...
ads


Loading...