গ্রীসে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত



  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৯ মার্চ ২০১৯, ১০:৫৯

ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গ্রীসের বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন এথেন্স শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুমুদ্রু পার্কে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীসের উদ্যোগে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমবেত কণ্ঠে গাওয়া ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি সমগ্র কুমুদ্রু পার্কে অনুরণিত হয়। এরপর গ্রীসের বাংলাদেশ কমিউনিটি এবং এথেন্স বসবাসরত রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জেলা ভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠনসমূহ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। কুমুদ্রু পার্কে রাত ১২ টার সময় শত শত বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পার্কে বয়ে আনে এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশ। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত মহান শহীদ দিবসের প্রাক্কালে এথেন্স মিউনিসিপালিটি কর্তৃক কুমুদ্রু পার্কে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের অনুমোদন প্রদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি অচিরেই এথেন্সে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপিত হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাওয়ার জন্য প্রবাসীদের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে এথেন্স মিউনিসিপালিটির এক সভায় কুমুদ্রু পার্কে স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন প্রদান করা হয়। এথেন্সে শহিদ মিনার স্থাপনের জন্য এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দীর্ঘদিন যাবত প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ২০১৭ সালের ১১ জুলাই রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে দূতাবাস টিম এথেন্সের মেয়র জর্জিয়াস কামিনিসের সাথে বৈঠক করেন এবং ঐ বৈঠকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এথেন্সে একটি শহীদ মিনার স্থাপনের প্রস্তাব করেন। এ বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মেয়রকে শহীদ মিনারের একটি প্রতিকৃতি উপহার দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। এরপর দূতাবাস থেকে এথেন্সের কুমুদ্রু পার্কে একটি শহীদ মিনার স্থাপনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব সংবলিত একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। অবশেষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে সভায় এথেন্স মিউনিসিপালিটি দূতাবাসের প্রস্তাব অনুমোদন করে।

একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এথেন্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার পর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের উত্তরোত্তর উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মহান একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই মহান ভাষা আন্দোলন বিষয়ক ও দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত বাণী যথাক্রমে পাঠ করেন রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন, কাউন্সিলর মো. খালেদ, কাউন্সলের ড. সয়ৈদা ফারহানা নূর চৌধুরী এবং প্রথম সচিব সুজন দেবনাথ। ব্যাপকভাবে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের কথা বিবেচনা করে প্রবাসীদের অনুরোধে এ বছর এথেন্সে অমর একুশে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাপ্তাহিক ছুটির দিন ২৩শে ফেব্রুয়ারি আয়োজন করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ



Loading...
ads


Loading...