ধর্ষণে অভিযুক্ত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রমাণ পেন ড্রাইভে


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৪২

আইনে পড়ুয়া ছাত্রীকে এক বছর ধরে ধর্ষণ, ভিডিও এবং ব্ল্যাকমেইল করার ভয়াবহ অভিযোগ পাওয়া গেছে এক প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতার প্রমাণস্বরূপ ‘ভিডিও' একটি পেন ড্রাইভে করে পুলিশের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ওই ছাত্রীর এক বন্ধু।

ওই মন্ত্রীর নাম চিন্ময়ানন্দ। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপাতি অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন ও ক্ষমতাসীন ভারতের বিজেপি নেতা বলে এনডিটিভি’র খবরে বলা হয়েছে। ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণী দেশটির উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা।

খবরে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত বিশেষ অনুসন্ধানকারী দলের হাতে ওই পেন ড্রাইভ তুলে দিয়েছেন নির্যাতিতার এক বন্ধু। তদন্তে নেমে ওই তরুণীকে ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। চশমায় লাগানো একটি ক্যামেরার সাহায্যে ওই তরুণী ঘটনার ভিডিও তিনি তুলে রেখেছিলেন।

ওই তরুণী অভিযোগ জানিয়েছেন, চিন্ময়ানন্দ তাকে এক বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন। ভিডিও দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতেন চিন্ময়ানন্দ।

অভিযোগপত্রে ওই তরুণী জানান, গত বছরের জুন মাসে ৭৩ বছরের চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। সেই সময় তিনি শাহজাহানপুরের সেই কল‌েজে আইন পড়ার জন্য ভর্তি হন, যে কলেজ পরিচালনা করেন চিন্ময়ানন্দ। চিন্ময়ানন্দ তার ফোন নম্বর নেন ও ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন। পরে তাকে ফোন করে কলেজের লাইব্রেরিতে ৫,০০০ টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন। তিনি সেই চাকরিটি করতে শুরু করেন কারণ তার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র।

এরপর অক্টোবরে ওই তরুণীকে হোস্টেলে চলে আসার জন্য বলেন চিন্ময়ানন্দ। পরে তাকে আশ্রমে আসার আহ্বান জানান। এরপরই হোস্টেলের বাথরুমে তরুণীর গোসলের ভিডিও তাকে দেখিয়ে চিন্ময়ানন্দ হুমকি দেন সেটি ভাইরাল করে দেয়ার। এইভাবে ভয় দেখিয়ে তিনি জোর করা শুরু করেন ওই তরুণীর উপরে। ধর্ষণের ভিডিও তুলে রাখা হয়। পরে সেটি দেখিয়েও তাকে ব্ল্যাকমেল করেন চিন্ময়ানন্দ।

ওই তরুণী সিদ্ধান্ত নেন তিনিও ভিডিও তুলে রাখবেন চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে। এরপর চশমায় ক্যামেরা লাগিয়ে তিনি ভিডিও তুলে রাখেন।

গত আগস্ট মাসে একটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। এ ঘটনার পর ওই ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা ফেসবুকে ওই পোস্ট দেখেন। এরপর ওই প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তার মেয়ে ও আরো অনেক মেয়েকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ আনেন তিনি। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ পুলিশ প্রথমে নিখোঁজ তরুণীর রিপোর্ট লিপিবদ্ধ করেনি। তিন দিন পরে নিখোঁজ ডায়রি লেখার পাশাপাশি অপহরণের অভিযোগও দায়ের হয়। কিন্তু কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

এক সপ্তাহ পরে ওই তরুণীকে রাজস্থানে পাওয়া যায়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মেয়েটিকে আদালতে হাজির করা হয়। তখন রুদ্ধদ্বার শুনানিতে তরুণীর সব অভিযোগ শোনে শীর্ষ আদালত। গত সপ্তাহে ওই তরুণী অভিযোগ দায়ের করলেও চিন্ময়ানন্দকে এখনও জেরা করা হয়নি বা তার বিরুদ্ধে চার্জও আনা হয়নি।

মানবকণ্ঠ/এএম




Loading...
ads




Loading...