সংসদে যুবকদের প্রতিনিধিত্ব মাত্র শতকরা ০.৩ ভাগ: ড. সায়েম আমীর ফয়সল



  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৪

জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়েম আমীর ফয়সল বলেছেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭০ ভাগেরই বয়স ৩৫ এর নিচে। অথচ একজন সংসদ সদস্যের গড় বয়স ৬০। ৩০ বছরের কম বয়সী সংসদ সদস্যদের বিশ্ব র‌্যাকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৬তম। অর্থাৎ বাংলাদেশের সংসদে যুবকদের প্রতিনিধিত্ব মাত্র শতকরা ০.৩ ভাগ।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকু'তে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিস (আইসিএপিপি) এর সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ১৯ টি দেশের ৩২ টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিগন অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ এবং ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনীতি বিদ্বেষ, দুর্নীতি, খুন এবং দলীয়করণের সমার্থক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদে শতকরা ৬৫ ভাগ সংসদ সদস্যই ব্যবসায়ী। বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্সের অধিকারী এসব ব্যবসায়ীরা যদি আমাদের সংসদকে ডমিনেট করে সেক্ষেত্রে আমরা কিভাবে তরুণ যুবকদের ক্ষমতার বলয়ে আত্তীকরণ করতে পারি।

ড.সায়েম আমীর ফয়সল বলেন, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও প্রবেশের ধারাকে আমরা পাঁচটি শ্রেণীতে ভাগ করতে পারি। (১) বংশীয় রাজনীতি; আত্মীয়করণ (২) ব্যবসায়ী, টেন্ডারপেনারশীপ; যা সংক্ষিপ্ত সময়ে একজনকে বিত্তশালী করে তোলে। পরবর্তীতে তারা বিত্তের বিনিময়ে পদ পদবী কিনে নেয়। (৩) সেলিব্রিটি মর্যাদা; যেখানে খ্যাতি এবং সেলিব্রেটি মর্যাদা রাজনীতিতে প্রবেশের মাধ্যম হয়। (৪) সরকারি আমলা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যক্তিবিশেষের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবেশ এবং (৫) ছাত্র রাজনীতি : ক্যারিয়ার হিসাবে ক্ষমতার বলয়ে পৌঁছাতে তৃণমূল থেকে রাজনীতি শুরু করতে হয়।

জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দেশে এখন যুব বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে শতকরা ৪৮ ভাগ। শিক্ষিত বেকার তরুণের হার শতকরা ৩৩ ভাগ। কৃষি খাত থেকে শতকরা ৮০ ভাগ কর্মসংস্থান হয়। আমাদের অধিকাংশ কর্মসংস্থান হয় ব্লু কলার ওয়ার্কারদের জন্য। ফলে হোয়াইট কলার তরুণ এবং শিক্ষিত তরুণদের বেকার থাকতে হয়।

এ সমস্যার সমাধানে ড. সায়েম আমীর ফয়সল বাংলাদেশ সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের উচিত যুব কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠন করা। জাতীয় বাজেট থেকে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া উচিত। যাতে করে দেশ জুড়ে স্টার্টআপ উদ্যোক্তা তৈরি হয় এবং দ্রুত বিকাশ লাভ করে। এতে করে এসব স্টার্টআপের জন্ম ও বিকাশে সরকারের অর্থায়ন হবে বীজ বপনের মতো। এই উদ্যোগ কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং একইসাথে তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি করবে। আর এটাই হবে চলমান যুব বেকারত্ব সংকট মোকাবেলার দৃশ্যমান কার্যকর কর্ম পরিকল্পনা। এতে করে বাংলাদেশ একটি স্টার্টআপ নেশনে পরিণত হতে পারে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং সম্পদের কার্যকর পুনর্বন্টন অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

জাকের পার্টির উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের জাগরণ হবে উল্লেখ করে জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জন্য যা করেছেন সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমার পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। পরিবর্তন শব্দটির সাথে যুবক শব্দটি সমার্থক। রাজনৈতিক ময়দানে কোন কিছুরই নিশ্চয়তা নেই, একটি বিষয়ের নিশ্চয়তা আছে তা হলো পরিবর্তন। পরিবর্তন হলো সত্যিকারের ধ্রুবক।

মানবকণ্ঠ/এএম

 




Loading...
ads




Loading...