আবারো আলোচনায় ছাত্রলীগ



  • সাইফুল ইসলাম
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৫৭

ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি নিয়ে আবারো আলোচনা শুরু হয়েছে। কমিটি থাকবে কি থাকবে না এ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনও দলীয় সভাপতির কাছে নেতাদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ তোলেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে আসে নানা অভিযোগের কথা। আনুষ্ঠানিক বৈঠকে আলোচনা হয় শীর্ষ নেতাদের অবজ্ঞা করার বিষয়টি।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় ছাত্রলীগ নিয়ে ক্ষুব্ধ মনোভাব ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। নিজেদের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তবে ছাত্রলীগ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১১ ও ১২ মে ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শেষে ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে এক যুগেরও বেশি সময় একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল ছাত্রলীগের কমিটি। নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ সিন্ডিকেটমুক্ত হওয়ার ধারণা তৈরি হয়। ফলে এ কমিটির প্রতি সবার প্রত্যাশা ছিল খানিকটা বেশি। কিন্তু তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সবাইকে হতাশ করেছে। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনাও উপেক্ষা করেন তারা। গত কয়েক মাস ধরে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দুই শীর্ষ নেতার আচরণ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন সিনিয়র নেতারা।

সর্বশেষ দলের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডেও এক সভায় তাদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষ না হতেই এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও গণমাধ্যমে। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি সারা দেশের ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র মতে, ওই বৈঠকে ছাত্রলীগের বিষয়টি ওঠার পর উপস্থিত অধিকাংশ নেতাই শোভন-রাব্বানীর কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ তোলেন। বিশেষ করে- সিনিয়র নেতাদের অবজ্ঞা করা, নির্দেশনা না মানা। বিভিন্ন ইস্যুতে অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়ারও অভিযোগ তোলা হয়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে বলেন, মনোনয়নে বোর্ডের মিটিংয়ে এ ধরনের (ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেয়ার) কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এখানে কোনো কোনো প্রসঙ্গে ক্ষোভের প্রকাশও হতে পারে বা কারো কারো রিঅ্যাকশনও আসতে পারে। কিন্তু অ্যাজ এ জেনারেল সেক্রেটারি অব দ্য পার্টি আমার এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা এ মুহূর্তে ঠিক হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা ইমপ্লিমেন্টশন প্রসেসে যায়। এখানে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটতে পারে, প্রতিক্রিয়া হতে পারে কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত আকারে কিছু হয়নি।

তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক তাদের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । তিনি বলেছেন এই ধরনের অভিযোগ সত্য হয় তাহলে এদের আর দায়িত্বে না থাকাই ভালো।

এদিকে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেয়ার সংবাদ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তবে কমিটি ভেঙে দেয়ার মতো কোনো নির্দেশনা দেননি।
তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে তা আমলে নেয়ার মতো নয়। এই ধরনের অভিযোগ বিগত কমিটিগুলোর বিরুদ্ধে ঢের ঢের ছিল। তারা যে কাজগুলো করেছে সেগুলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, সে বিষয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নাই।

নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বছরে ১১১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মাত্র ২টি শাখার নতুন কমিটি হয়েছে। শাখাগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ ক্রমশই বাড়ছে। দাওয়াত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রেখে বিতর্কের জš§ দিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। ২০ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে এই বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন তিনি। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তোফায়েল আহমেদকে প্রধান অতিথি করে আয়োজন করা ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে তাকে বসিয়ে রেখে দেরিতে আসার রেকর্ড আছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এই দুই নেতার। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুষ্ঠানে যাওয়া, ছাত্রলীগের কর্মীকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় দেয়ার মতো কর্মকাণ্ড তো আছেই। ৩০ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রথম বর্ধিত সভায় চার ঘণ্টা পর উপস্থিত হন।

বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন বিতর্কের জš§ দেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। ছাত্রলীগ সভাপতি বিমানবন্দরের ‘ভিআইপি লাউঞ্জে’ কয়েকশ’ নেতাকর্মী নিয়ে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের অনেকেই চলে যান টারমাকে। সেখানে উড়োজাহাজটির দরজায় গিয়েও তারা শোভনকে বিদায় জানান। ছাত্রলীগ সভাপতির এমন কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী মানবকণ্ঠকে বলেন, আপা (শেখ হাসিনা) একটি স্ট্রাকচারের বাইরে এসে নিজে পছন্দ করে বর্তমান কমিটি দিয়েছেন। এজন্য আমাদের প্রতি তার প্রত্যাশা বেশি, রাগ বেশি, ভালোবাসাও বেশি। সন্তান ভুল করলে মা অসন্তোষ প্রকাশ করতেই পারেন। সেটাই প্রধানমন্ত্রী করেছেন। আমাদের কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে। এছাড়া আমরা ষড়যন্ত্রেরও স্বীকার হয়েছি। অনেক কিছু ভিন্নভাবে ও অতিরঞ্জিত করে আপার কাছে বলা হয়েছে। আপা যে কারণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সেই ভুলগুলোকে সংশোধন করে আগামীতে অনেক সতর্ক থাকব। আপা আমাদের যে প্রত্যাশা বা আশা নিয়ে দায়িত্ব দিয়েছেন সেই প্রত্যাশা পূরণে চেষ্টা করব।




Loading...
ads




Loading...