বগুড়ায় কমিটি ঘোষাণা নিয়ে বিএনপিতে তুলকালাম কাণ্ড!



  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৬ মে ২০১৯, ১৯:৪৪

বগুড়ার বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর তুলকালাম সৃষ্টি হয়েছে। পদবঞ্চিতরা বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে বাইরে আগুন দেয়। পরে রাত ১১টার দিকে অপরপক্ষ সেই তালা ভেঙে নতুন করে তালা লাগায়। পাল্টাপাল্টি তালা লাগানো ছাড়াও ওই রাতেই দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আবারো পদবঞ্চিতরা তারেক রহমানের ঘোষিত বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্ববায়ক কমিটির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছেন।

গত বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দফতার সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে আহ্বায়ক করে বগুড়া জেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরপরই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সভাপতি শাহ্ মেহেদী হাসান হিমু ও জাসাস জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরুর নেতৃত্ব বিএনপি নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে এবং আহ্বায়ক সিরাজকে ‘সংস্কারপন্থী নেতা’ উল্লেখ করে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে তারা সিরাজের কুশপুত্তলিকা পোড়ান।

এ ঘটনার পর নতুন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও নতুন কমিটির অন্তত ১০/১২ জন সদস্যের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকশ নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে আসেন। তারা অন্য পক্ষের দেয়া তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের অনুমোদিত এই আহ্বায়ক কমিটিতে জায়গা না পেয়ে আগের কমিটির কিছু দলীয়নামধারী ব্যক্তি বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। এরা আওয়ামী লীগের এজেন্ট হয়ে দলীয় চেয়ারপার্সনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এটি দলীয় কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও তিনি জানান। এসময় বিএনপির যুগ্ম আহবাক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল,সদস্য রেজাউল করিম বাদশা,আলী আজগর তালুকদার হেনা বক্তব্য রাখেন।

এরপর আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা বগুড়ার ‘চম্পা মহল’ সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান লালুর বড়িতে সমবেত হয়ে আলোচনায় বসেন। খবর পেয়ে আহ্বায়ক কমিটির বিরোধীরা লালু এমপির বাসভবন চম্পা মহলের বাড়ির বাইরে জড়ো হয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে। পরে বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে নেতা-কর্মীরা হামলাকারীদের ধাওয়া করে। এই সব ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহষ্পতিবার যুবদলের জেলা শাখার সংগঠনিক সম্বপাদক ফারুকুল ইসলাম ফারুক, যুগ্ম-সম্পাদক মাসুদ রানা মাসুদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জুম্মান আলী শেখ, সহ-দফতর সম্পাদক মোমমিন আকন্দ, সদস্য বুলবুল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজীবকে দরীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২৫ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বিএনপি জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তাবনা চাওয়ার পরই মূলত জেলা বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। ২৯ এপ্রিল বিএনপির দুটি অংশ পৃথ দুটি আহ্বায়ক কমিটির প্রস্তাবনা পাঠায় কেন্দ্রে। পরে ৪ মে কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। বিলুপ্তির ১০ দিন পর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর আবারো প্রকাশ্য দ্বন্দের মুখোমুখি জেলা বিএনপির এই দুই পক্ষ।

বিএনপির কমিটি নিয়ে পদবঞ্চিতদের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিদায়ী কমিটির সাধাণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান বলেন, যেহেতু তারেক রহমান এই কমিটির নাম ঘোষণা করেছেন সে কারনে এই কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই। তবে ত্যাগী আরো কিছু নেতার নাম অন্তরভূক্ত করা হলে ভালো হতো।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

 



Loading...
ads


Loading...