আ.লীগে উদ্যোগ নেই সঙ্কট সমাধানের



আর মাত্র কয়েক মাস পরই অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সেই সম্মেলনের আগেই তৃণমূল আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। জেলা সফরে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলকে সর্তক করলেও যে সংকট তৈরি হয়েছিল তা সমাধানের উদ্যোগ বাস্তবে দেখা যায়নি। ত্যাগী নেতাদের বক্তব্য না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি সভা করে দলের কোনো সংকট সমাধান না হলেও ব্যক্তি ইমেজ বাড়ছে কেন্দ্রীয় নেতাদের। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তণমূলকে ঢেলে সাজানোর জন্য বেশ কয়েকটি টার্গেট নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে বর্ধিত সভা করা শুরু করেছে। তারমধ্যে বঙ্গবন্ধুর জš§শতবার্ষিকী উদযাপনের নির্দেশনা, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ডেটাবেজ তৈরি। সব ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিটে সম্মেলনের প্রস্তুতি ও দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করা। এই লক্ষ্যগুলো নিয়ে সারাদেশ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

গত শনিবার (১১ মে) চট্টগ্রাম মহানগরের কাজীর দেউড়ি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে সভা উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মাহাবুবুল আলম হানিফ ও জেলা নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের সঞ্চালনায় বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরু, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী, সমন্বয়ক নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সহ চট্টগ্রাম বিভাগের সাত সাংগঠনিক জেলা চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর জেলা, দক্ষিণ জেলা, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত আছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে দলকে তৃণমূলে চাঙা করতে এ বর্ধিত সভা আয়োজন করা হয়েছে। সেই বর্ধিত সভায় বিভিন্ন জেলার সভাপতিকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিলেও সদস্য সচিব ও আহ্বায়ককে বক্তব্যের সুযোগ না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই নিয়ে বর্ধিত সভাতেই কানাঘোষা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত এক তৃণমূল নেতা বলেন, আমরা আমাদের সংকটের কথা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমাদের সুযোগ দেয়া হয়নি। এখানে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন তারাও জানার চেষ্টা করেননি। বরং তারাই নিজেদের বক্তব্য দেয়া নিয়েই ছিলেন বেশি ব্যস্ত। তৃণমূল যা চায় না করে শুধু কয়েকটি উপদেশ দিয়ে সতর্ক করে গেলেন।

এবারের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী। কেন্দ্রীয় নেতারাই তৃণমূল সফর নিয়ে বেশি আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। কারণ হিসেবে ওই নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ে সাংগঠনিক টিম গঠনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু কয়েকটি বিভাগের সাংগঠনিক টিমে উপদেষ্টা পরিষদের কারো নাম দেখা যায়নি এখনো।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নানাবিধ কারণে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বিভাগীয় টিমে রাখা বা না রাখা নিয়ে মতদ্বৈধতা রয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ৮ বিভাগের জন্য ৮টি সাংগঠনিক টিম গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন। ওই টিমের সদস্যরা নিজ নিজ বিভাগে তৃণমূল পর্যায়ে সভাগুলো করবেন। ইতোমধ্যে খুলনা বিভাগের জেলাসমূহে সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন এ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, দলকে বেগবান ও গতিশীল করার লক্ষ্যে তৃণমূলে সাংগঠনিক সফর। আমাদের লক্ষ্য আগামী অক্টোবরে দলের জাতীয় সম্মেলনের আগেই সব জেলা-উপজেলাকে ঢেলে সাজানো।

মূলত ব্যক্তি ইমেজ বাড়ানোর জন্যই বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি সভা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সামনে জাতীয় সম্মেলন। এ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী রয়েছেন অনেকেই। তাদের মধ্যেই তৃণমূল সফরের তাড়া বেশি দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান মানবকণ্ঠকে বলেন, উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তৃণমুলের নেতারা আমাদের গ্রহণ করছেন। তৃণমূলের যে সংকট রয়েছে তার গ্রহণ যোগ্য সমাধান আমরা পেয়েছি। তারাও আমাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তৃণমূলকে ঢেলে সাজানোর ব্যাপারে তৃণমূলই সহযোগিতা করছেন।

মানবকণ্ঠ/এএম

 



Loading...
ads


Loading...